‘চোখের চিকিৎসার নাম করে দেশ ছেড়ে পালানোর মতলব!’ অভিষেককে তোপ ঋতব্রতের

চোখের চিকিৎসার কারণে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ডিজে (DJ) সংক্রান্ত মামলায় তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা সত্ত্বেও বিদেশযাত্রার অনুমতি আটকে থাকায় তিনি শীর্ষ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। তবে এই আবেদনকে কেন্দ্র করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আশঙ্কা, চিকিৎসার বাহানা দিয়ে ‘ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট’ ব্যবহার করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন তৃণমূল সাংসদ।
সাবেক সাংসদ হিসেবে সাংসদদের বিশেষ পাসপোর্টের আইনি ফাঁকফোকর তুলে ধরে ঋতব্রত দাবি করেন, “সাধারণ নাগরিকদের পাসপোর্ট নীল হলেও সাংসদদের কাছে লাল রঙের ‘ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট’ থাকে। ভারতের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই—এমন কোনো দেশে এই বিশেষ পাসপোর্ট নিয়ে কেউ চলে গেলে তাকে আর সহজে গ্রেফতার বা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। উনি বিদেশে যাওয়ার জন্য এত তাড়াহুড়ো করছেন কারণ আদতে উনি পালিয়ে যেতে চান।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘চার্টার্ড মাফিয়া’ বলে কটাক্ষ করে ঋতব্রত আরও প্রশ্ন তোলেন তাঁর আগের বিদেশযাত্রার খরচ নিয়ে। তাঁর বক্তব্য, চিকিৎসার নামে বিদেশে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, তার সঠিক উৎস তদন্ত করে দেখা উচিত। সেখানে ব্যক্তিগত টাকা কতটা আর দলের টাকা কতটা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের অক্টোবরে মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা ফেরার পথে মারাত্মক পথদুর্ঘটনায় অভিষেকের চোখের নিচে গুরুতর আঘাত লাগে। এর পর থেকে নিয়মিত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে যেতে হয়। এর আগে কলকাতা হাইকোর্টেও বিদেশযাত্রার দ্রুত শুনানির আবেদন করেছিলেন অভিষেক, তবে আদালত তা খারিজ করে দেয়। সেই কারণেই এবার তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছেন।