রেকর্ড গরমে বিপর্যস্ত জাপান! ডিহাইড্রেশনে চিড়িয়াখানায় পরপর ৩ সিংহীর মৃত্যু, আশঙ্কাজনক আরও ৩

রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহে প্রাণ ওষ্ঠাগত জাপানের। মারাত্মক গরম ও আর্দ্রতার প্রভাব এবার গিয়ে পড়ল বন্যপ্রাণীদের ওপর। দেশের বিখ্যাত টামা ন্যাশনাল পার্কে (Tama Zoological Park) তীব্র গরম, জলশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন) এবং একাধিক অঙ্গ বিকল (মাল্টিপল অর্গ্যান ফেলিওর) হয়ে পরপর তিনটি সিংহীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দীর্ঘ ইতিহাসের এই প্রথমবার গরমের কারণে সিংহ মৃত্যুর মতো নজিরবিহীন ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল।
মৃত সিংহী তিনটির নাম— ‘মুগি’ (বয়স ৩ বছর), ‘ইচিগো’ এবং ‘লুয়েনা’ (বয়স ১৫ বছর)। পার্ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৯ জুলাই থেকে তিন বছরের ‘মুগি’ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা ও ওষুধ প্রয়োগ সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো যায়নি; ২৮ জুলাই তার মৃত্যু হয়। এর পরপরই ৩১ জুলাই মারা যায় ‘ইচিগো’ এবং গত রবিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে বয়স্ক সিংহী ‘লুয়েনা’। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও জলশূন্যতার কারণে শরীরের একাধিক অঙ্গ বিকল হয়েই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
পরিস্থিতি এখানেই শেষ নয়; চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গেছে, এখনও দু’টি সিংহ এবং একটি সিংহী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। তাদের বাঁচাতে ভিটাামিন সাপ্লিমেন্ট ও জরুরি ওষুধ দিয়ে বিশেষ চিকিৎসাসেবা চালানো হচ্ছে।
কেন গরমে এত কাতর হয়ে পড়ে সিংহরা? বিশেষজ্ঞ ও প্রবীণ অধ্যাপক হেদিয়াকি কারাকির মতে, সিংহদের শরীরের গঠনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে তারা অতিরিক্ত গরমে দ্রুত কাবু হয়ে পড়ে। সিংহের শরীরে মানুষের মতো ঘাম উৎপন্ন হওয়ার গ্রন্থি থাকে না। তারা মূলত মুখ দিয়ে ঘন ঘন হাঁপিয়ে বা বড় বড় নিঃশ্বাস ফেলে শরীরের অতিরিক্ত লীনতাপ বাইরে বের করে দেয়। কিন্তু বাতাসে যখন আপেক্ষিক আর্দ্রতা এবং তাপমাত্রা— দুটোই খুব বেশি থাকে, তখন তাদের এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা সহজে কমে না এবং দ্রুত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হতে শুরু করে।
উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সাল থেকে টামা ন্যাশনাল পার্কে সিংহ প্রতিপালন করা হচ্ছে। প্রায় ২৬০ প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল এই পার্কে এর আগে কখনও এমন আবহাওয়া সংক্রান্ত বিপর্যয় দেখা যায়নি।
চলতি বছরে জাপানের আবহাওয়া চরম আকার ধারণ করেছে। একাধিক শহরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি পার করেছে। শুধু বন্যপ্রাণীই নয়, এই অভূতপূর্ব তাপপ্রবাহে অসুস্থ হয়ে এ পর্যন্ত দেশটির অন্তত ৪৩,০০০ মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।