মাঝআকাশে ৩০০ ফুট পতন: ‘মনে হচ্ছিল আর বাঁচব না’, এয়ার ইন্ডিয়া বিমানে হাড়হিম করা অভিজ্ঞতা!

আকাশপথে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের কাছে এয়ার টার্বুলেন্স খুব অজানা বিষয় নয়। তবে সেই টার্বুলেন্স যে কখনো সাক্ষাৎ মৃত্যুর রূপ নিতে পারে, মঙ্গলবার তার হাড়হিম করা সাক্ষী হলেন ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার (AI2379) উড়ানের যাত্রীরা। মাঝআকাশে আচমকা ‘অল্টিটিউড ড্রপ’ (উচ্চতা হ্রাস)-এর কারণে বিমানের কেবিনে তৈরি হয় চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় অন্তত ১৭ জন (১৩ জন যাত্রী ও ৪ জন কেবিন ক্রু) আহত হয়েছেন।
কী ঘটেছিল মাঝআকাশে? মঙ্গলবার ১৩৭ জন যাত্রী এবং ৮ জন ক্রু সদস্য নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার AI2379 উড়ানটি স্বাভাবিক নিয়মেই নির্দিষ্ট উচ্চতায় (ক্রুজ পর্যায়ে) উড়ছিল। যাত্রীরা কেউ সিনেমা দেখছিলেন, কেউ বই পড়ছিলেন, আবার কেউ বা বিশ্রামে মগ্ন ছিলেন। কিন্তু হঠাৎই সব কিছু ওলটপালট হয়ে যায়। আচমকা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে আসে।
তীব্র ঝাঁকুনিতে কেবিনের ভেতরে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। যেসকল যাত্রীর সিটবেল্ট বাঁধা ছিল না, তাঁরা নিজের আসন থেকে ছিটকে উপরে সিলিংয়ের দিকে উঠে যান। কারো মাথা ঠুকে যায় সামনের আসনে, আবার কেউ ধাক্কা খান পাশের যাত্রীর সঙ্গে।
“মনে হচ্ছিল আর বাঁচব না” — প্রত্যক্ষদর্শীর হাড়হিম করা বর্ণনা: মা ও বোনের সঙ্গে ভ্রমণরত ইতালির বাসিন্দা ভিভিয়ানা সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে শিউরে ওঠেন। এএনআই (ANI)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
“সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল। হঠাৎই শুরু হলো তীব্র ঝাঁকুনি। দেখলাম আমার বোন আসন থেকে ছিটকে উপরে উঠে গেল! মায়ের মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লাগল, আমার হাত থেকে ফোন ছিটকে পড়ে গেল। পিছনের আসনের কয়েকজন যাত্রীর মুখ রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। সেই কয়েক সেকেন্ড সময় আমাদের কাছে কয়েক ঘণ্টার মতো মনে হচ্ছিল। সত্যি মনে হয়েছিল, আজ আর বাঁচব না।”
পাইলটের সাহসিকতা ও বর্তমান পরিস্থিতি: পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠলেও এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট অত্যন্ত দক্ষতা ও ঠান্ডা মাথায় বিমানটি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর নিরাপদে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানটিকে জরুরি অবতরণ করানো হয়। ল্যান্ডিংয়ের পর পরই আহতদের অ্যাম্বুলেন্স ও স্ট্রেচারে করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত উচ্চতায় উড়ানের সময় কয়েক সেকেন্ডের জন্য বিমানটি নিচে নেমে গিয়েছিল, তবে পাইলট দ্রুত পরিস্থিতি সামলে নেন। বিমান সংস্থা আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে। সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, প্রাথমিক চিকিৎসার পর ৫ জন যাত্রীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাকিদের চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।