“অতীতে যাই ঘটুক, বর্তমান সরকার প্রো-ইন্ডাস্ট্রি”: চুঁচুড়ায় দাঁড়িয়ে শিল্পপতিদের বড় বার্তা অর্থমন্ত্রীর

“অতীতে যাই ঘটুক, বর্তমান সরকার প্রো-ইন্ডাস্ট্রি”: চুঁচুড়ায় দাঁড়িয়ে শিল্পপতিদের বড় বার্তা অর্থমন্ত্রীর

হুগলি: মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চুঁচুড়ার সায়রা মোড়ে স্থানীয় বিধায়ক সুবীর নাগের নতুন কার্যালয় উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সেখান থেকেই রাজ্য সরকারের শিল্পবান্ধব ভাবমূর্তি তুলে ধরে শিল্পপতিদের বিশেষ বার্তা দিলেন তিনি। স্পষ্ট জানালেন, অতীতে যাই ঘটে থাকুক না কেন, বর্তমান সরকার সম্পূর্ণভাবে শিল্প ও ব্যবসার পক্ষে (প্রো-ইন্ডাস্ট্রি)।

শিল্প ও বিনিয়োগ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য: অর্থমন্ত্রী জানান, রাজ্যে নতুন শিল্পের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিদিন দেশ-বিদেশের নানা শিল্পপতি মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর সঙ্গে আলোচনা করছেন। বড় বিনিয়োগকারীরা আপাতত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। তাঁরা মূলত চান—

  • আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকুক এবং তোলাবাজিমুক্ত পরিবেশ তৈরি হোক।
  • পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও দক্ষ, প্রশিক্ষিত শ্রমিক সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।

অর্থমন্ত্রীর মতে, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি বহিঃরাজ্যে কর্মরত বাঙালি শ্রমিকদের ফিরিয়ে এনে কাজে লাগানোও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই কয়েকটি বড় বিনিয়োগের কথা চলছে, তবে বড় মাপের প্রজেক্টের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা সব দিক পর্যবেক্ষণ করেই সিদ্ধান্ত নেবেন।

কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ও এআই-আইটি সেক্টর: চলতি অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রের থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা পেয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এই অর্থ সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), তথ্যপ্রযুক্তি (IT) এবং ডেটা সেন্টার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ টানতে বিশেষ ‘ইনসেন্টিভ পলিসি’ বা ছাড়পত্র নীতি তৈরি করা হচ্ছে। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আলোচনা করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সিঙ্গুর ও ডানলপ প্রসঙ্গ: একসময়ের চর্চিত সিঙ্গুর ও ডানলপ কারখানা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, অতীতে জমির সমস্যায় সিঙ্গুরের পরিস্থিতি ভেস্তে গেলেও এই জাতীয় সরকারি সম্পদ বা জমিকে ফেলে রাখা হবে না। সেগুলিকে নতুন করে উৎপাদনশীল করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। ডানলপের বিশালাকার জমিতে আগের কারখানার বদলে অন্য কোনো নতুন শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ ও ‘লক্ষ্মী ভান্ডার’: অনুষ্ঠানে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ এবং ‘লক্ষ্মী ভান্ডার’ প্রকল্পের পার্থক্য বুঝিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগে লক্ষ্মী ভান্ডারে আবেদন করলেই কোটিপতিরাও টাকা পেতেন। কিন্তু অন্নপূর্ণা যোজনার ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম মেনেই সুবিধা দেওয়া হবে এবং যাবতীয় সমস্যা দ্রুত মিটিয়ে ফেলা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *