পড়াশোনার নাম করে গেমের নেশা! বাবার ৪২ হাজার টাকা ওড়ালো অষ্টম শ্রেণির ছাত্র

পড়াশোনার নাম করে গেমের নেশা! বাবার ৪২ হাজার টাকা ওড়ালো অষ্টম শ্রেণির ছাত্র

মোবাইল গেমের অতিরিক্ত আসক্তি যে কতটা মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে, তার আরও একটি মর্মান্তিক নজির সামনে এলো। পড়াশোনার অজুহাত দিয়ে বাবার স্মার্টফোনটি হাতে পেয়েছিল অষ্টম শ্রেণির এক কিশোর। আর সেই সুযোগেই গেমের পেছনে বিপুল পরিমাণ টাকা উড়িয়ে পরিবারটিকে নিমেষের মধ্যে গভীর আর্থিক সংকটে ঠেলে দিয়েছে সে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে যখন ওই কিশোরের বড় ভাই জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘রেডিট’-এর (Reddit) r/RobloxSupport কমিউনিটিতে পুরো বিষয়টি জানিয়ে একটি পোস্ট করেন। পোস্টের শিরোনাম ছিল— “অনুমতি ছাড়াই ভাই রোবলক্সে ৪২ হাজার টাকা খরচ করে ফেলেছে।”

কীভাবে ঘটলো এই বিপুল টাকার অপচয়?

অনলাইন গেম ‘রোবলক্স’ (Roblox) খেলার সময় গেমের নিজস্ব ভার্চুয়াল মুদ্রা ‘রোবাক্স’ (Robux) কেনার নেশায় মেতে ওঠে ওই ছাত্র। রেডিট পোস্টের স্ক্রিনশট অনুযায়ী, সে মোট ৪২,৬৪৭ টাকার ইন-অ্যাপ পার্চেস (In-app purchases) করে ফেলে। লেনদেনের ইতিহাসে দেখা যায়, খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে ২,০০০ টাকা করে বারবার পেমেন্ট করা হয়েছে। গেমের ডিজিটাল মুদ্রা কেনার পর তার সিংহভাগই সে খরচ করে ফেলে— অ্যাকাউন্টে পেয়ছিল মাত্র ১০০ রোবাক্সের মতো।

পরিবারে নেমে এলো চরম আর্থিক সংকট

কিশোরের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন কাণ্ডে মারাত্মক বিপদে পড়েছে তার পরিবার। তার বাবা এমনিতেই একটি ব্যাংক ঋণের ইএমআই (EMI) মেটাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছিলেন। তার ওপর এই অপ্রত্যাশিত ৪২ হাজার টাকার ধাক্কা পরিবারটিকে কার্যত নিঃস্ব করে দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, সন্তানের স্কুলের বকেয়া বেতন কীভাবে মেটাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে বাবা-মায়ের।

রিফান্ডের আশায় নেটিজেনদের কাছে সাহায্য

টাকা ফেরতের কোনো উপায় আছে কি না জানতে চেয়ে রেডিটে পোস্ট করেছিলেন ভুক্তভোগী পরিবারটি। পোস্টটি দেখে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন নেটিজেনরা:

  • ব্যাংক চার্জব্যাক (Chargeback): প্রথমেই ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে লেনদেনটি বাতিলের আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে সতর্ক করা হয়েছে যে, এর ফলে কিশোরের রোবলক্স অ্যাকাউন্টটি চিরতরে বন্ধ (Permanent Ban) হয়ে যেতে পারে।
  • রোবলক্স সাপোর্ট: রোবলক্সের অফিসিয়াল সাপোর্ট টিমে আবেদন জানিয়ে পুরো বিষয়টি বুঝিয়ে বললে টাকা ফেরত পাওয়ার একটি সম্ভাবনা থেকে যায়।
  • গুগল প্লে স্টোর রিফান্ড: কেনাকাটাগুলো গুগল প্লে স্টোর থেকে হয়ে থাকলে, সেগুলোকে ‘অননুমোদিত লেনদেন’ (Unauthorized Transaction) হিসেবে ফ্ল্যাগ করে দ্রুত টাকা ফেরতের (Refund) আবেদন জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন অনেকেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *