সিবিএসই বোর্ডে ঐতিহাসিক বদল: নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হচ্ছে ‘ক্রেডিট পয়েন্ট’ ব্যবস্থা

দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনছে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ (NEP 2020)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিবিএসই-অধিভুক্ত স্কুলগুলিতে চালু হতে চলেছে ‘ন্যাশনাল ক্রেডিট ফ্রেমওয়ার্ক’ (NCrF)। এর ফলে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি নির্দিষ্ট ‘ক্রেডিট পয়েন্ট’ পাবে, যা তাদের ভবিষ্যৎ ও উচ্চশিক্ষাকে আরও সহজ করবে।
NCrF বা ‘ক্রেডিট সিস্টেম’ আসলে কী?
এটি এমন একটি একক মূল্যায়ন কাঠামো, যা সাধারণ স্কুল শিক্ষা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা (Vocational Education) এবং উচ্চশিক্ষাকে এক সূত্রে বাঁধে। শুধুমাত্র মুখস্থ বিদ্যা বা পরীক্ষার নম্বরের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা, ব্যবহারিক জ্ঞান এবং বহুমুখী প্রতিভাকে মূল্যায়ন করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
কীভাবে নির্ধারিত হবে এই ক্রেডিট পয়েন্ট?
স্কুল স্তরে ক্রেডিট অর্জনের জন্য একটি বিশেষ হিসেব রাখা হয়েছে:
- শিক্ষার সময়সীমা: বছরে মোট ১,২০০ ঘণ্টা শিক্ষার জন্য বরাদ্দ ৪০টি ক্রেডিট (অর্থাৎ, প্রতি ৩০ ঘণ্টা পড়াশোনা বা কার্যক্রমে ১টি ক্রেডিট)।
- বিষয়ভিত্তিক নম্বর/ক্রেডিট বিভাজন:
- ভাষাভিত্তিক বিষয়: ১২০ ঘণ্টার জন্য ৪ ক্রেডিট।
- গণিত, বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান: ১৫০ ঘণ্টার জন্য ৫ ক্রেডিট।
- শারীরিক শিক্ষা ও কলা (Arts): ২ ক্রেডিট করে।
- বৃত্তিমূলক শিক্ষা (Vocational Studies): ৫ ক্রেডিট।
- অতিরিক্ত সুযোগ: মূল বিষয়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিষয়, খেলাধুলা বা অভিজ্ঞতাভিত্তিক কার্যক্রমে অংশ নিলেও অতিরিক্ত ক্রেডিট পাওয়া যাবে।
উচ্চশিক্ষায় কী সুবিধা মিলবে?
- দ্বাদশ শ্রেণির পর বিভিন্ন পেশাগত ও বৃত্তিমূলক কোর্সে সরাসরি প্রবেশের সুযোগ থাকছে।
- কলেজে ভর্তি বা নতুন যেকোনো কোর্সে রেজিস্ট্রেশনের সময় এই ক্রেডিট পয়েন্ট শিক্ষার্থীকে অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখবে।
ইতিমধ্যেই কয়েকটি রাজ্যে এটি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সব সিবিএসই স্কুলে চালু করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপে ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা নতুন যুগে প্রবেশ করল।