দাতিয়ায় বিজেপির ভরাডুবি: পুরো জেলা কমিটি বরখাস্ত, এবার কি কোপ নরোত্তম মিশ্রের ঘাড়ে?

মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া বিধানসভা উপনির্বাচনে অপ্রত্যাশিত হারের মুখ দেখার পরপরই কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিল রাজ্য বিজেপি। রাজ্য সভাপতি হেমন্ত খান্ডেলওয়ালের নির্দেশে দাতিয়া জেলা বিজেপির পুরো কার্যনির্বাহী কমিটি একযোগে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বড় জল্পনা—রাজ্যের প্রভাবশালী নেতা তথা প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্রের বিরুদ্ধে দলীয় হাইকমান্ড বড় কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কি না।
সূত্রের খবর, নরোত্তম মিশ্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজ্য শাখা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না। এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট ইতিমধ্যেই দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং দিল্লি থেকেই তাঁর ভাগ্য নির্ধারণ হবে।
টিকিট বিতর্ক ও বিক্ষোভের নেপথ্য কাহিনী
উপনির্বাচনে নরোত্তম মিশ্রকে টিকিট না দিয়ে আশুতোষ তিওয়ারিকে প্রার্থী করে বিজেপি। এতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন নরোত্তম-সমর্থকরা। প্রতিবাদে দাতিয়া জেলা কমিটির সমস্ত সদস্য পদত্যাগ করেন এবং প্রায় ১১ ঘণ্টা জাতীয় মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ দেখান। সেসময় নির্বাচন পার করার জন্য রাজ্য সভাপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করলেও, নির্বাচন মিটতেই শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে জেলা কমিটি ভেঙে দিয়ে কড়া বার্তা দিল বিজেপি।
নরোত্তমের নীরবতা ও বুথে পরাজয়
পুরো বিক্ষোভ চলাকালীন নরোত্তম মিশ্রের রহস্যজনক নীরবতাকে কেন্দ্র নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখেছে। তার ওপর, নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে দলের প্রার্থী আশুতোষ তিওয়ারি খোদ নরোত্তম মিশ্রের নিজের বুথেই হেরে গেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এতে স্পষ্ট যে নরোত্তম-শিবিরের অভ্যন্তরীণ সমর্থন দলের প্রার্থী পাননি।
নরোত্তম মিশ্রের সাফাই
বিতর্ক ও জল্পনা উড়িয়ে ফলপ্রকাশের পর বিজেপি প্রার্থী আশুতোষ তিওয়ারির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নরোত্তম মিশ্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্টে তিনি লেখেন,
“আশুতোষ আমার ছোট ভাইয়ের মতো এবং তাঁর সঙ্গে আমার ২৫ বছরের পারিবারিক সম্পর্ক। আমাদের মধ্যে কোনো তিক্ততা নেই। রাজনীতিতে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু সম্পর্ক চিরস্থায়ী।”
একই সঙ্গে তিনি কর্মীদের উদ্দেশ্যে কোনো বিভ্রান্তিকর মন্তব্যে কান না দেওয়ার এবং দলের ভাবমূর্তি বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।