জাতি শংসাপত্রে বড় ঝাড়াই-বাছাই, নবান্নের আতশকাচে ৪৫ হাজারেরও বেশি সার্টিফিকেট!
রাজ্য জুড়ে জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate) পুনর্মূল্যায়নের কাজ জোরকদমে শুরু করল নবান্ন। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, বিগত কয়েক বছরে বিলি করা কাস্ট সার্টিফিকেটগুলোর স্বচ্ছতা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। এখনও পর্যন্ত মোট ১ লক্ষ ২২ হাজার ১১৭টি শংসাপত্র পুনর্নিরীক্ষা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪৫ হাজারেরও বেশি শংসাপত্র এখন নবান্নের সন্দেহের তালিকায়!
যাচাইয়ের হিসাব এক নজরে:
- মোট পুনর্নিরীক্ষিত শংসাপত্র: ১,২২,১১৭টি
- বৈধ প্রমাণিত: ৭৬,৭৫০টি (প্রায় ৬২.৮%)
- সন্দেহের তালিকায়: ৪৫,০০০-এর বেশি
- সরাসরি বাতিল: ১৩৫টি
কেন এই কড়া পদক্ষেপ? দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল যে, রাজ্যে ওবিসি (OBC), এসসি (SC) ও এসটি (ST) শংসাপত্র বিলিতে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপোষণ হয়েছে। বিশেষ করে ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরগুলো থেকে আবেদনের মাত্র এক সপ্তাহ বা তার কম সময়ে যে শংসাপত্রগুলো দেওয়া হয়েছিল, প্রথম দফায় সেগুলোকেই স্ক্যানারে এনেছে প্রশাসন।
সাধারণ নিয়মে আবেদন জমা পড়ার পর সরকারি আধিকারিকদের সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে তদন্ত ও শুনানি করতে হয়। কিন্তু অভিযোগ, ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরের মাধ্যমে তড়িঘড়ি পরিষেবা দিতে গিয়ে বহু ক্ষেত্রে এই জরুরি প্রক্রিয়াটি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল। আর সেই সুযোগেই অনেক অযোগ্য ব্যক্তি ভুয়ো নথি দিয়ে জাতিগত শংসাপত্র হাতিয়ে নিয়েছেন।
প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারি: তদন্তে কোনো শংসাপত্র ভুয়ো প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাঁকুড়ার এক প্রশাসনিক সভা থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়, জাল নথির ভিত্তিতে শংসাপত্র দেওয়া এবং নেওয়া— দুই-ই অপরাধ। ফলে জাল প্রমাণিত হলে শংসাপত্রপ্রদানকারী আধিকারিক এবং প্রাপক, উভয়কেই গ্রেপ্তার করা হবে।