ভোট নয়, লক্ষ অধিকার! রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলা ‘আরশোলা’ বাহিনীর পরবর্তী চাল কী?

অনলাইন ট্রোলিং ও ব্যঙ্গ-কৌতুক থেকে যাত্রা শুরু করলেও, দেশের বর্তমান রাজনীতিতে বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে বিশাল আন্দোলনের পর, সংগঠনের পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে দু’দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছিল তারা।
মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে আয়োজিত এই বৈঠক শেষে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে জানান, তাদের এখনই কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করার বা নির্বাচনে লড়ার ইচ্ছে নেই। আপাতত দেশের তরুণ ও বেকারদের অধিকার আদায়ে একটি ‘প্রেসার গ্রুপ’ বা চাপ সৃষ্টিকারী সংগঠন হিসেবেই কাজ করবে সিজেপি।
‘আমাদের লক্ষ্য নির্বাচন নয়, অধিকার আদায়’
বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর অভিজিৎ জানান, মাত্র দু’মাস আগে তৈরি হওয়া এই সংগঠনটি আজ দেশের লাখ লাখ ক্ষুব্ধ তরুণ-তরুণীর অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছে। তাদের টানা আন্দোলনের মুখেই সম্প্রতি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন দেশের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তবে দিল্লিতে এই প্রাথমিক সাফল্যের পর আসল চ্যালেঞ্জ হলো সারা দেশে সংগঠনটিকে ছড়িয়ে দেওয়া।
অভিজিতের কথায়, “সংবাদমাধ্যম হয়তো আমাদের সরাসরি রাজনীতিতে আসা নিয়ে উৎসাহী, কিন্তু আমরা নতুন কোনো দল গড়ার কথা ভাবছি না। দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে তরুণদের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথা শোনাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।”
নতুন আন্দোলন ও ঝাড়খণ্ডে নজর
সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাসহ প্রায় ৫০ জন প্রতিনিধি এই কৌশলগত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। দেশজুড়ে ছাত্ররা যেখানেই বঞ্চনা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুলবে, সিজেপি তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে জেপিএসসি (JPSC) সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে ঝাড়খণ্ডে গত ১২ দিন ধরে ছাত্রদের প্রতিবাদ এবং ছাত্র নেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোর অনশন চলছে। প্রখ্যাত লাদাখি সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক ইতিমধ্যেই এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন। ওয়াংচুককে নিজেদের ‘মেন্টর’ বা পথপ্রদর্শক মেনে অভিজিৎ দিপকে ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন পড়লে ঝাড়খণ্ডের ছাত্রদের সমর্থন জানাতে সরাসরি সেখানে পৌঁছাবে সিজেপির দল।
নির্বাচনী রাজনীতিতে না জড়িয়েও দেশের যুবশক্তিকে কীভাবে একছাতার তলায় এনে পরিবর্তনের ডাক দেওয়া যায়, আপাতত তা নিয়েই জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন সিজেপি নেতৃত্ব।