“কলকাতা ডাকলেই ছুটে আসব!” ১৯ বছর পর আবেগঘন বিদায় তসলিমার

“কলকাতা ডাকলেই ছুটে আসব!” ১৯ বছর পর আবেগঘন বিদায় তসলিমার

প্রায় দুই দশক পর কলকাতায় এসে ছয় দিনের সফর শেষে বুধবার শহর ছাড়লেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বাংলাদেশ সফর নিয়ে নানা কথা জানান।

বাংলাদেশে ফেরার আকুতি ও প্রশাসনিক বাধা

বিমানবন্দরে তসলিমা জানান, তিনি দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন এবং নিজের দেশে ফিরতে তিনি অত্যন্ত ব্যাকুল। কিন্তু ভিসা ও পাসপোর্টের সমস্যার কারণে তাঁর দেশে ফেরা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন:

“অবশ্যই আমি বাংলাদেশে ফিরতে চাই। কিন্তু আমার পাসপোর্ট নবীকরণ করা হয়নি, এমনকি আমার সুইডিশ পাসপোর্টেও বাংলাদেশের ভিসা দেওয়া হয়নি। তাই আপাতত ভারতেই থাকতে হচ্ছে।”

কলকাতার ভালোবাসায় আপ্লুত লেখিকা

গত ৩১ জুলাই কলকাতায় এসেছিলেন তসলিমা। শহরের একাধিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। দীর্ঘ ১৯ বছর পর তাঁর এই সফর ঘিরে সাহিত্যপ্রেমীদের মধ্যে দারুণ আগ্রহ দেখা যায়।

যাওয়ার আগে শহরবাসীর ভালোবাসায় আবেগপ্রবণ হয়ে লেখিকা জানান, কলকাতায় তাঁর চমৎকার কিছু স্মৃতি তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের ভালোবাসা তাঁর চোখে জল এনে দিয়েছে। আগামী অক্টোবরে বা আগামী বছর কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার সময় তিনি ফের এই শহরে আসতে পারেন বলেও আশা প্রকাশ করেছেন। তসলিমার কথায়, “কলকাতা যখনই ডাকবে, আমি চলে আসব।”

ফিরে দেখা: ২০০৭-এর বিতর্ক

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে তসলিমা নাসরিনের আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস ‘দ্বিখণ্ডিত’কে কেন্দ্র করে কলকাতায় তীব্র বিক্ষোভ ও অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছিল। তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা ভেবে বইটি নিষিদ্ধ করে এবং তসলিমাকে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য করে। পরবর্তীতে তৃণমূল সরকারের আমলেও সেই পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি।

দীর্ঘ ১৯ বছর পর তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে আবার রাজ্য রাজনীতিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *