বর্ষায় রোগমুক্ত থাকতে RO ওয়াটার পিউরিফায়ার ব্যবহার করছেন? তাহলে জানুন এই জরুরি সতর্কবার্তা!

বর্ষায় রোগমুক্ত থাকতে RO ওয়াটার পিউরিফায়ার ব্যবহার করছেন? তাহলে জানুন এই জরুরি সতর্কবার্তা!

বর্ষাকাল শুরু হলেই আমরা পানীয় জলের মান নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন হয়ে উঠি। অনেকে মনে করেন বাড়িতে ভালো মানের RO পিউরিফায়ার বসানো মানেই শতভাগ সুরক্ষিত জল পাওয়া নিশ্চিত। তবে এখানেই আমরা একটি বড় ভুল করে ফেলি—আমরা প্রায়ই মনে করি শুধু নির্দিষ্ট সময়ে ফিল্টার বদলালেই RO ঠিক থাকে। বাস্তবে, পিউরিফায়ারের স্টোরেজ ট্যাঙ্ক পরিষ্কার রাখাটাও সমান জরুরি।

ফিল্টার হওয়া জল দীর্ঘদিন যে ট্যাঙ্কে জমা থাকে, সেখানে ধীরে ধীরে ধুলোবালি, ক্ষতিকর খনিজ এবং আর্দ্রতার কারণে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক জমতে শুরু করে। বিশেষ করে বর্ষার দিনে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে এই ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের বাড়বাড়ন্ত বহুগুণ বেড়ে যায়। ফলে পরিশ্রুত জলও ট্যাঙ্কে জমা হয়ে আবার দূষিত হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অন্তত প্রতি ১ থেকে ২ মাস পর পর RO-র ওয়াটার ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করা উচিত।

কখন বুঝবেন আপনার RO ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করা দরকার?

  • জলের স্বাভাবিক স্বাদে হঠাৎ পরিবর্তন এলে।
  • জল থেকে কোনো বিশ্রী বা অস্বাভাবিক গন্ধ বের হলে।
  • দীর্ঘদিন বাড়ি বন্ধ থাকার পর ফিরে এসে যদি ট্যাঙ্ক পরিষ্কার না করা হয়ে থাকে।
  • যখন পিউরিফায়ারের ফিল্টার পরিবর্তনের সময় হয়ে আসে।

ঘরে বসেই নিজে নিজে কীভাবে পরিষ্কার করবেন RO ট্যাঙ্ক?

এর জন্য প্রতিবার সার্ভিসিং টেকনিশিয়ানকে ডাকার প্রয়োজন নেই। কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে আপনি নিজেই এটি পরিষ্কার করে নিতে পারেন:

  1. বিদ্যুৎ ও জলের লাইন বন্ধ করুন: নিরাপত্তার জন্য প্রথমেই মেশিনের প্লাগ খুলে নিন এবং ইনপুট জলের কলটি বন্ধ করে দিন।
  2. জমা জল খালি করুন: ট্যাঙ্কের জল ট্যাপ দিয়ে পুরোপুরি বের করে দিন। (এই জল নষ্ট না করে ঘর মোছা বা গাছে দেওয়ার কাজে লাগাতে পারেন)।
  3. ঢাকনা খুলুন: ম্যানুয়াল দেখে সাবধানে স্টোরেজ ট্যাঙ্কের কভারটি খুলে ফেলুন।
  4. প্রাকৃতিক মেথড ব্যবহার করুন: ট্যাঙ্কের ভেতরে কোনো রাসায়নিক বা কড়া সাবান ব্যবহার করবেন না। হালকা গরম জলে সামান্য সাদা ভিনেগার বা লেবুর রস মিশিয়ে নিন।
  5. স্পঞ্জ দিয়ে পরিষ্কার করুন: শক্ত স্ক্রাবার ব্যবহার না করে নরম স্পঞ্জ বা সুতির কাপড় দিয়ে আলতো করে ভেতরে জমে থাকা স্তর মুছে ফেলুন। এরপর পরিষ্কার জল দিয়ে ২-৩ বার ধুয়ে ফেলুন।
  6. প্রথমবারের জল ফেলে দিন: ট্যাঙ্ক শুকিয়ে ফের জায়গা মতো বসানোর পর মেশিন চালু করুন। ফিল্টার হয়ে প্রথমবার যে জল ট্যাঙ্কে জমবে, তা ফেলে দিন। এরপর দ্বিতীয়বার ফিল্টার হওয়া জল থেকে তা নিরাপদে পান করতে পারেন।

সামান্য সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে ট্যাঙ্কের যত্ন আপনার পরিবারকে জলবাহিত নানা রোগ থেকে দূর রাখতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *