AI-এর কোপ চাকরির বাজারে: লক্ষাধিক কর্মী ছাঁটাইয়ের মুখে মেটা-অ্যামাজন সহ তাবড় সংস্থা!

AI-এর কোপ চাকরির বাজারে: লক্ষাধিক কর্মী ছাঁটাইয়ের মুখে মেটা-অ্যামাজন সহ তাবড় সংস্থা!

বিশ্বজুড়ে চাকরির বাজারে ফের বড় ধরনের বিপর্যয়ের সুর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর দ্রুত প্রসার, কর্পোরেট পুনর্গঠন এবং খরচ কমানোর জেরে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হেঁটেছে বিশ্বের একাধিক খ্যাতনামা বহুজাতিক সংস্থা। মেটা, অ্যামাজন, ওরাকল এবং ওয়ালমার্টের মতো টেক ও রিটেইল জায়ান্টগুলি ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে।

কেন এই গণছাঁটাই?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ছাঁটাইয়ের মূল অনুঘটক হলো এআই এবং অটোমেশন প্রযুক্তির বহুল ব্যবহার। অধিকাংশ বহুজাতিক সংস্থাই মনে করছে, এআই ব্যবহারের মাধ্যমে কম কর্মী দিয়েই আগের চেয়ে অনেক দ্রুত ও নিখুঁত কাজ সম্ভব। ফলে মানুষের জায়গা দ্রুত দখল করে নিচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি।

তবে কেবল এআই-ই নয়, বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা, বাজারের চাহিদার রূপান্তর এবং জটিল কর্পোরেট কাঠামোগুলোকে প্রযুক্তিনির্ভর ও সহজ করে তোলার লক্ষ্যেই এই পথ বেছে নিয়েছে কো ম্পা নিগুলি।

এক নজরে ছাঁটাইয়ের চিত্র:

বিভিন্ন বিশ্বখ্যাত সংস্থায় কর্মী ছাঁটাইয়ের একটি বড় তালিকা প্রকাশ পেয়েছে:

  • UPS: প্রায় ৩০,০০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা।
  • Oracle: মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১৩% (২১,০০০ কর্মী) ছাঁটাই করা হচ্ছে।
  • Citi Group: প্রায় ২০,০০০ কর্মী কমানোর সিদ্ধান্ত।
  • Amazon: কর্পোরেট স্তর থেকে প্রায় ১৬,০০০ পদ বাতিল।
  • Dell: প্রায় ১১,০০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা।
  • Estee Lauder: প্রায় ১০,০০০ চাকরি ছাঁটাই।
  • British American Tobacco: প্রায় ৯,০০০ কর্মী কমানো হচ্ছে।
  • Heineken: ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ কর্মী ছাঁটাই।
  • Visa: প্রায় ২,৬০০ পদ বিলুপ্ত করা হচ্ছে।
  • Atlassian: ১,৬০০ কর্মী কমিয়ে সেই অর্থ সরাসরি এআই-তে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
  • Nike: প্রায় ১,৪০০ কর্মী ছাঁটাই।
  • Cloudflare: মোট কর্মীর ২০% (১,১০০ জন) কমানোর সিদ্ধান্ত।

ভবিষ্যৎ আশঙ্কাজনক: টিকে থাকার উপায় কী?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গণছাঁটাই কেবল এক বড় সংকটের সূচনা মাত্র। ইতিমধ্যেই বহু মার্কিন সংস্থা সরকারি দপ্তরে কারখানা বন্ধ ও কর্মী ছাঁটাইয়ের চূড়ান্ত নোটিস জমা দিয়েছে।

সংকটের ৩টি প্রধান কারণ:

  1. AI ও অটোমেশনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা।
  2. বিভিন্ন দেশের পরিবর্তিত সরকারি নীতি।
  3. বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (WEF)-এর সতর্কবার্তা অনুযায়ী, আগামী ৫ বছরের মধ্যে প্রায় ৪১% সংস্থা শুধুমাত্র AI-এর কারণেই কর্মী কমানোর পরিকল্পনা করছে। ফলে আগামী দিনে কেবল প্রথাগত ডিগ্রি দিয়ে চাকরির বাজারে টিকে থাকা কঠিন। ক্যারিয়ার বাঁচাতে এখন থেকেই এআই ও আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা (AI Skills) অর্জন করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *