ক্যান্সার রুখবে একটি চিউয়িং গাম! বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী আবিষ্কারে সারা বিশ্বে আলোড়ন

ক্যান্সার রুখবে একটি চিউয়িং গাম! বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী আবিষ্কারে সারা বিশ্বে আলোড়ন

বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়ত জাঁকিয়ে বসছে মারণ রোগ ক্যান্সার। বিশেষ করে মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সার (Head and Neck Cancer)—যা মুখমণ্ডল, গলা, স্বরযন্ত্র ও নাকের আশেপাশের কোষগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তার বাড়বাড়ন্ত বর্তমানে চিকিৎসকদের চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। মূলত অতিরিক্ত তামাক সেবন, মদ্যপান এবং হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের (HPV) মতো মারাত্মক সংক্রমণের কারণে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

তবে এই মারণ ব্যাধি বাসা বাঁধার আগেই তা প্রতিরোধের এক অত্যন্ত সহজ ও অভিনব উপায় বের করেছেন গবেষকরা। ‘ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভ্যানিয়া’-র একদল বিজ্ঞানী তৈরি করেছেন একটি বিশেষ ‘বায়ো-ইঞ্জিনিয়ার্ড চিউয়িং গাম’। এই গামটি মুখে ক্ষতিকর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি আটকে দিতে সক্ষম।

কীভাবে কাজ করবে এই চিউয়িং গাম? বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্কুল অফ ডেন্টাল মেডিসিন’-এর গবেষক হেনরি ড্যানিয়েলের নেতৃত্বে বিজ্ঞানীরা শিমের বীজ (Lablab Beans) থেকে প্রোটিন সংগ্রহ করে এই স্পেশাল চিউয়িং গামটি তৈরি করেছেন। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা গেছে, এতে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা মুখের ভেতরের সব ক্ষতিকর জীবাণুকে কার্যকরভাবে ধ্বংস করে।

‘হেড অ্যান্ড নেক স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা’ (HNSCC)-তে আক্রান্ত রোগীদের লালা নিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এই চিউয়িং গামটি রোগীদের লালায় HPV-এর মাত্রা প্রায় ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে সফল হয়েছে। শুধু তাই নয়, মুখের ক্যান্সারের পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক করে তোলার জন্য দায়ী ‘পোর্ফিরোমোনাস জিঞ্জিয়াভ্যালিস’ এবং ‘ফিউসোব্যাকটিরিয়াম নিউক্লিয়াটাম’ নামক মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াকেও এটি পুরোপুরি নির্মূল করতে পারে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও বিশেষজ্ঞদের মত: যদিও পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও গবেষণাগারেই সীমাবদ্ধ এবং এখনই এটি সাধারণ মানুষের জন্য বাজারে পাওয়া যাবে না, তবুও প্রাথমিক ফলেই মিলেছে অভূতপূর্ব সাফল্য। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের আশা, ভবিষ্যতে ক্যান্সার প্রতিরোধে এই উদ্ভাবন এক বিরাট বিপ্লব আনবে।

তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই আধুনিক চিউয়িং গাম ক্যান্সার প্রতিরোধে নতুন আশা দেখালেও, সঠিক সময়ে টিকাকরণ (Vaccination), নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা (Screening) এবং সচেতন জীবনযাত্রার কোনো বিকল্প নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *