ক্লাস চলাকালীন নরমেধ! থাইল্যান্ডের স্কুলে ছাত্রের অমানবিক গুলিবর্ষণ, শিক্ষকসহ নিহত ৭

ব্যাংকক: আবারও থাইল্যান্ডের স্কুলে নজিরবিহীন রক্তপাত! পাঠদান চলাকালীন এক ছাত্রের এলোপাথাড়ি গুলিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ মোট ৭ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এই ভয়াবহ তাণ্ডব চালানোর পর হামলাকারী ছাত্রটি নিজেও আত্মহত্যা করে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় থাইল্যান্ড জুড়ে তীব্র শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।
থাইল্যান্ড পুলিশের মুখপাত্র ট্রাইরং ফিউফান সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে জানান, হামলাকারী শিক্ষার্থী তাণ্ডব চালানোর পরপরই নিজের ওপর গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হয়। থাইল্যান্ডের শিক্ষামন্ত্রী প্রসেস জান্তারারুয়াংটং নিশ্চিত করেছেন যে, নিহতদের মধ্যে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী উভয়ই রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ওই স্কুলের এক ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জানায়, ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ করেই পর পর বন্দুকের গর্জন ভেসে আসে। থমথমে স্তব্ধতার মাঝে আবারও শুরু হয় গুলিবর্ষণ। উদ্ধারের কাজে যুক্ত সদস্য কেয়াতিখুন ভেরাপোংপ্রাদিপ জানান, স্কুলের ওপরের তলায় এক পুরুষ শিক্ষকের নিথর দেহ পাওয়া যায়। পাশেই সংকটজনক অবস্থায় পড়ে থাকা এক শিক্ষিকাকে উদ্ধার করে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে সিপিআর (CPR) দেওয়ার পর দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
২০২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৩,১০০ শিক্ষার্থী ও ১৪৭ জন শিক্ষক থাকা দেশটির এই নামী প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনায় স্তম্ভিত অভিভাবক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। উল্লেখ্য, চলতি বছরে থাইল্যান্ডের স্কুলে এটি দ্বিতীয় রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে এক স্কুলে বন্দুকবাজের হামলায় এক শিক্ষক নিহত ও এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে থাইল্যান্ডে বন্দুকবাজের হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এর আগে ২০২২ সালে দেশটির একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে চালানো নৃশংস হামলায় ২২টি শিশুসহ মোট ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা পুরো বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।