“আমার ছেলে তো কাজে বেরিয়েছিল!” পাটনায় পশ্চিমবঙ্গগামী বাসের পিষে মৃত্যু যুবকের, অগ্নিগর্ভ NH-30

“আমার ছেলে তো কাজে বেরিয়েছিল!” পাটনায় পশ্চিমবঙ্গগামী বাসের পিষে মৃত্যু যুবকের, অগ্নিগর্ভ NH-30

পাটনা: শুক্রবার সকালে বিহারের রাজধানী পাটনার বাইপাস থানা সংলগ্ন এনএইচ-৩০ (NH-30) চরম অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল এক মর্মান্তিক পথদুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা একটি বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় ২০ বছর বয়সী এক তরতাজা যুবকের মৃত্যুর পর এলাকা জুড়ে শুরু হয় চরম তাণ্ডব। বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তা অবরোধ করার পাশাপাশি পুলিশ ভ্যান, বাস ও মোটরসাইকেলসহ প্রায় ১০টি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভাঙচুর চালানো হয় ট্রাফিক পুলিশ ফাঁড়িতেও।

পরিবারের একমাত্র সম্বলকে কাড়ল বেপরোয়া বাস স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত যুবকের নাম মনীশ কুমার (২০)। তিনি টাকিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে বড় মনীশ ছিলেন দিনমজুর, যার উপার্জনেই চলত তাঁর দরিদ্র পরিবারটি। শুক্রবার সকালে কাজ করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। রাস্তা পার হওয়ার সময় পশ্চিমবঙ্গগামী একটি অনিয়ন্ত্রিত ও দ্রুতগামী বাস তাঁকে সজোরে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মনীশ।

ছেলের মৃত্যুর খবর পৌঁছাতেই পরিবারে নেমে আসে কান্নার রোল। বৃদ্ধা মা শোকে পাথর হয়ে শুধু বলতে থাকেন, “আমার ছেলে তো আজ সকালেই কাজ করতে বেরিয়েছিল…”

জনতার রোষ ও পুলিশের ওপর হামলা দুর্ঘটনার পরই স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় নেমে এনএইচ-৩০ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে ফেলে। বাসটিতে আগুন লাগানোর আগেই যাত্রীরা কোনোক্রমে প্রাণ বাঁচিয়ে নেমে যান। তবে এরপরই পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নেয়। উত্তেজিত জনতা পুলিশি গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও দমকলের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পথচলতি সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে ট্রাফিক স্টেশনের এএসআই এন এন সিং জানান, “দুর্ঘটনার পরেই হঠাৎ বিশাল জনতা আমাদের ঘিরে ধরে তাণ্ডব শুরু করে। পরিস্থিতি এতটাই হিংসাত্মক হয়ে ওঠে যে প্রাণ বাঁচাতে আমাদের সেখান থেকে সরে যেতে হয়েছিল।”

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৯ থানার পুলিশ, লাঠিচার্জ ঘটনার খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে একে একে মোট ৯টি থানার অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পাটনা সিটির এএসপি রাজ কিশোর সিং জানান, ভিড়ের সুযোগ নিয়ে কিছু সমাজবিরোধী এই অশান্তি ছড়ায়। পরবর্তীতে পুলিশ বাধ্য হয়ে মৃদু লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বর্তমানে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এনএইচ-৩০ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভস্মীভূত যানবাহনগুলি ক্রেন দিয়ে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে এলাকায় এখনো থমথমে ভাব বজায় থাকায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *