বর্ষায় দ্বিগুণ বিপদ! রাজধানীতে ডেঙ্গি ও সোয়াইন ফ্লুর থাবা, আক্রান্ত আড়াই হাজার পার
August 7, 20269:00 pm

নতুন দিল্লি: বর্ষা নামতেই রাজধানীতে জোড়া ভাইরাসের থাবা। একদিকে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গি, অন্যদিকে অত্যন্ত সংক্রামক এইচ১এন১ (সোয়াইন ফ্লু)—এই দুইয়ের দাপটে কার্যত কাহিল দিল্লি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দিল্লিতে মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৩৮৯ জনে (যার মধ্যে ২১০ জন অন্যান্য রাজ্যের বাসিন্দা)। অন্যদিকে, সোয়াইন ফ্লু বা এইচ১এন১ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১,৩৪৪ জন। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়ে গেলেও স্বস্তির বিষয়—এখনও পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
ডেঙ্গি: উপসর্গ ও জরুরি সাবধানতা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র মতে, এডিস মশার কামড়ে ছড়ানো এই রোগে সাধারণত ৪ থেকে ১০ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়।
- সাধারণ লক্ষণ: তীব্র জ্বর, চোখের পেছনে ও গাঁটে ব্যথা, প্রবল মাথাব্যথা, বমিভাব, লসিকাগ্রন্থি ফোলা ও শরীরে র্যাশ।
- বিপদচিহ্ন (তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন): জ্বর কমার পর তীব্র পেটব্যথা, বমি বা মলে রক্ত, মাড়ি/নাক থেকে রক্তপাত, দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস, ফ্যাকাশে ত্বক ও অতিরিক্ত দুর্বলতা।
- করণীয়: পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও জল খাওয়া প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শে কেবল প্যারাসিটামল ব্যবহার করা উচিত। অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন একেবারেই খাওয়া চলবে না, কারণ এতে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
- প্রতিরোধ: শরীর ঢাকা পোশাক, মশারি/মশা প্রতিরোধক ব্যবহার এবং বাড়ির চারপাশে জল জমতে না দেওয়া।
সোয়াইন ফ্লু (H1N1): সতর্কতা ও প্রতিকার
ইনফ্লুয়েঞ্জা এ (Influenza A)-র এই উপপ্রকারটি কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়।
- সাধারণ লক্ষণ: হঠাৎ জ্বর, শুকনো কাশি, গলা ব্যথা, পেশিতে ব্যথা, নাক দিয়ে জল পড়া ও চরম ক্লান্তি।
- ঝুঁকিপূর্ণ দল: গর্ভবতী মহিলা, শিশু (৫ বছরের নিচে), বয়স্ক ব্যক্তি (৬৫-র ঊর্ধ্বে) এবং ক্রনিক রোগীদের ক্ষেত্রে এটি জটিল রূপ নিতে পারে।
- চিকিৎসা ও সুরক্ষার উপায়: হালকা উপসর্গে বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ কার্যকর ভূমিকা নেয় (অ্যান্টি-বায়োটিক এতে কাজ করে না)। নিয়মিত হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার করা এবং বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রতি বছর ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে ‘হু’।