“আমি তো বাবা বাগেশ্বর নই!” IIT দিল্লির সমাবর্তনে হালকা চালে বড় বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

“আমি তো বাবা বাগেশ্বর নই!” IIT দিল্লির সমাবর্তনে হালকা চালে বড় বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (IIT) দিল্লির ৫৭তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী তাঁর স্বভাবসুলভ কৌতুক ও রসিকতার ছলে তরুণ প্রজন্মকে আগামী দিনের জন্য বিশেষ বার্তা দেন।

“আমি বাবা বাগেশ্বর নই…”

সমাবর্তন মঞ্চে এসে শিক্ষার্থীদের মনের অবস্থা বোঝাতে গিয়ে হালকা চালে রসিকতা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি তো আর বাবা বাগেশ্বর নই, তবে জানি এই মুহূর্তে তোমাদের মনে অনেক ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে।” তাঁর এই মন্তব্যে উপস্থিত সকল শিক্ষার্থী ও অধ্যাপকদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে। এর পরেই তিনি ছাত্রছাত্রীদের প্রথম দিনের পরিচিতি পর্ব থেকে শুরু করে সমাবর্তন পর্যন্ত স্মৃতিময় যাত্রার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

জীবনের আসল শিক্ষা পাঠ্যসূচির বাইরে

শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে মোদী বলেন, “যারা শেখে, তারাই জয়ী হয়।” তিনি মনে করিয়ে দেন:

  • ক্যাম্পাসের পড়াশোনা বা অ্যাসাইনমেন্ট নির্দিষ্ট সিলেবাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
  • তবে বাস্তব জীবনে প্রতিনিয়ত যেসব চ্যালেঞ্জ আসবে, তার কোনো নির্ধারিত পাঠ্যসূচি থাকে না।
  • যেকোনো চ্যালেঞ্জকে ভয় না পেয়ে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রযুক্তি, আত্মনির্ভরতা ও বিকশিত ভারত

প্রযুক্তির দ্রুতগতির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রযুক্তির শক্তিতেই আজ বিশ্বের ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন হচ্ছে। ভারত কীভাবে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, তার উদাহরণ দিয়ে তিনি সেমিকন্ডাক্টর খাতের কথা উল্লেখ করেন। মোদী আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান, একসময় সংশয় থাকলেও আজ ভারতে সেমিকন্ডাক্টর তৈরি হচ্ছে এবং আগামী দিনে চিপ থেকে শুরু করে জাহাজ—সবই এই দেশের তরুণ প্রজন্মের হাতে তৈরি হবে।

স্বাস্থ্য ও ‘বর্জ্য থেকে সমৃদ্ধি’

বক্তৃতার শেষভাগে প্রধানমন্ত্রী ‘গোবর্ধন যোজনা’র মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের ওপর জোর দেন। একই সাথে, আগামী দিনে সাফল্যের পাশাপাশি তরুণদের নিজস্ব শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *