এবার শুধু ই-বাইকেই আসবে সুইগি-জোমাটোর পার্সেল! আসছে নতুন ‘বাইক-ট্যাক্সি নীতি’

সুইগি (Swiggy), জোমাটো (Zomato), ব্লিংকিট (Blinkit) এবং জেপ্টো (Zepto)-র মতো দ্রুত গতিতে ডেলিভারি দেওয়া সংস্থাগুলির কার্যপদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। মহারাষ্ট্র রাজ্য পরিবহন বিভাগ ‘মহারাষ্ট্র বাইক-ট্যাক্সি রুলস, ২০২৫’-এ সংশোধনী আনার পরিকল্পনা করছে, যা কার্যকর হলে এই সমস্ত ই-কমার্স ও ডেলিভারি অ্যাপগুলির ফ্লিট পরিচালনার নিয়ম পুরোপুরি বদলে যাবে।
এতদিন যা কেবল রাইড- শেয়ারিং বাইক অ্যাপগুলির জন্য প্রযোজ্য ছিল, এবার থেকে পণ্য, পার্সেল এবং খাবার পৌঁছানোর কাজে যুক্ত বাইক ও চালকদের ওপরও সেই নিয়ম বলবৎ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই খসড়াটি ইতিমধ্যেই রাজ্য আইন ও বিচার বিভাগের পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।
নতুন নিয়মে কী কী পরিবর্তন আসতে পারে?
- পুরোপুরি ইভি (EV) ফ্লিট: প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, ডেলিভারি সংস্থাগুলিকে পেট্রোল বাইকের বদলে সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক ভেহিকেল (EV) বা ই-বাইক ব্যবহার করতে বাধ্য করা হতে পারে।
- জিপিএস ট্র্যাকিং ও বিমা: প্রতিটি গাড়ি ও চালকের জন্য জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা ও বিমা সুবিধা দেওয়া বাধ্যতামূলক হবে।
- ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও লাইসেন্স: আঞ্চলিক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (RTA) নির্ধারিত ভাড়ার নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং প্রতিটি সংস্থাকে একটি নির্দিষ্ট লাইসেন্স আইডি নম্বর সংগ্রহ করতে হবে।
- ১৫ কিমির সীমাবদ্ধতা: পরিবহন মন্ত্রী প্রতাপ সারনায়েক জানান, ১৫ কিলোমিটারের কম দূরত্বে চালিত সমস্ত ডেলিভারি বাইক এই নতুন নীতির আওতায় আসবে।
ডেলিভারি কর্মীদের জন্য ‘ড্রাইভার ওয়েলফেয়ার ফান্ড’
এই প্রস্তাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গিগ ওয়ার্কার বা ডেলিভারি বয়দের সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করা। প্রস্তাব অনুযায়ী:
- প্রতিটি রাইড বা ডেলিভারির ভাড়ার ২ শতাংশ টাকা সংগৃহীত হবে একটি ‘ড্রাইভার ওয়েলফেয়ার ফান্ড’ বা চালক কল্যাণ তহবিলে।
- এই তহবিল থেকে কর্মীদের পেনশন, দুর্ঘটনা বিমা, ই-বাইক কেনার জন্য সহজ ঋণ এবং সন্তানদের পড়াশোনার আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হবে।
রাজ্য পরিবহন কমিশন একটি বিশেষ ডিজিটাল পোর্টাল তৈরির পরিকল্পনা করছে, যার মাধ্যমে এই সমস্ত বাইক এবং চালকদের রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং করা সম্ভব হবে। এর ফলে গ্রাহক ও চালকদের মধ্যে সংঘাত বা ক্ষোভের নিরসন সহজে করা যাবে।
উল্লেখ্য, দিল্লি ও হরিয়ানার মতো রাজ্যগুলি এর আগেই ডেলিভারি ফ্লিটকে ইলেকট্রিক যানবাহনে স্থানান্তরিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে ডেলিভারি অ্যাপের রোজগারকে সরাসরি চালকদের কল্যাণ তহবিলের সাথে যুক্ত করার ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্র সরকার এক অনন্য ও যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চলেছে।