পুজোর স্বস্তিক চিহ্নে লুকিয়ে কোন গভীর রহস্য? ভুল নিয়মে আঁকছেন না তো!

পুজোর স্বস্তিক চিহ্নে লুকিয়ে কোন গভীর রহস্য? ভুল নিয়মে আঁকছেন না তো!

নতুন গৃহপ্রবেশ থেকে শুরু করে পুজোর পিঁড়ি—সনাতন ধর্মের যেকোনো শুভ অনুষ্ঠানে লাল সিঁদুর দিয়ে স্বস্তিক চিহ্ন আঁকা এক প্রাচীন ও পবিত্র রীতি। কিন্তু আমরা ভক্তিভরে ঘরে যে চিহ্নটি আঁকি, তা কি কেবলই একটি সাধারণ নকশা? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে হাজার বছরের প্রাচীন বিজ্ঞান, দর্শন ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা?

‘স্বস্তিক’ শব্দের মূল অর্থ

সংস্কৃত শব্দ ‘সু’ এবং ‘অস্তি’-র মিলনে গঠিত হয়েছে ‘স্বস্তিক’। এর আক্ষরিক অর্থ—‘যা শুভ বা মঙ্গলময়, তার অস্তিত্ব’। শাস্ত্র মতে, বাস্তু থেকে সমস্ত নেতিবাচক বা অশুভ শক্তি দূর করে ইতিবাচক বা পজিটিভ শক্তি আকর্ষণ করাই এই চিহ্নের মূল কাজ।

চার বাহুর বিশেষ তাৎপর্য

স্বস্তিক চিহ্নের বাঁকানো চারটি বাহু সনাতন ধর্ম ও বাস্তুশাস্ত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বার্তা বহন করে:

  • চার দিক: এটি পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ—এই চার দিক থেকে সংসারে শুভ শক্তি, সমৃদ্ধি ও শান্তির আগমনের প্রতীক।
  • জীবনের চার লক্ষ্য (পুরুষার্থ): হিন্দু দর্শন অনুযায়ী মানুষের জীবনের চারটি মূল স্তম্ভ—ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ-কে নির্দেশ করে এই চার বাহু।
  • চার বেদ: আধ্যাত্মিক সাধকদের মতে, এই চার বাহু সনাতন ধর্মের চার বেদ—ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ ও অথর্ববেদ-এর অমূল্য জ্ঞানকে ধারণ করে।
  • চার আশ্রম: মানবজীবনের চার প্রধান পর্যায়—ব্রহ্মচর্য, গার্হস্থ্য, বানপ্রস্থ ও সন্ন্যাস-এর সংকেত দেয় এই বাহুগুলি।

কেন্দ্রবিন্দু ও লাল রঙের মহিমা

নিখুঁতভাবে আঁকা একটি স্বস্তিকের ঠিক মাঝে একটি যোগসূত্র বা কেন্দ্রবিন্দু থাকে। পুরাণ অনুযায়ী, এটি হলো সমগ্র মহাবিশ্বের বা ব্রহ্মাণ্ডের কেন্দ্র, যা সবকিছুকে এক সুতোয় বেঁধে রাখে।

এছাড়া স্বস্তিক তৈরিতে লাল সিঁদুর বা আবির ব্যবহারের কারণ হলো, লাল রং শক্তি, সৃষ্টি এবং শুভ চেতনার প্রতীক

মনে রাখুন: তাই পরবর্তী সময়ে পুজোর পিঁড়িতে বা ঘরের দরজায় যখনই স্বস্তিক আঁকবেন, মনে রাখবেন এটি কেবল প্রথা নয়—এর সাথে জড়িয়ে রয়েছে আপনার জীবনের উন্নতি, মানসিক শান্তি ও সাফল্যের চাবিকাঠি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *