কূটনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই ঢাকায় বড় পদক্ষেপ, তারেক-দীনেশ হাই-ভোল্টেজ বৈঠক!

ঢাকা: দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভার্চুয়াল বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে তৈরি হওয়া উত্তেজনার মধ্যেই ঢাকায় এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। সোমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
এর আগে ৯ আগস্ট বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গেও দেখা করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে দীনেশ ত্রিবেদী জানান, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি আলোচনা করলে অনেক জটিল সমস্যারই সমাধান সম্ভব।
সম্পর্কের তিক্ততা কমাতে ভারতের ইতিবাচক বার্তা
দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া কূটনৈতিক চাপ কাটাত ভারতীয় হাইকমিশনার ইতিবাচক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সুর বজায় রেখেছেন। সম্প্রতি ঢাকায় ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে তিনি মন্তব্য করেন,
“বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমরা সকলেই অত্যন্ত সম্মান করি। তিনি অত্যন্ত মন থেকে এবং সাধারণ মানুষের জন্য কথা বলেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সাধারণ মানুষের সাথে গভীরভাবে যুক্ত।”
অন্যদিকে, শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলন নিয়ে ভারত সরকার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে— উক্ত অনুষ্ঠানের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো যোগ ছিল না। সেটি একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল এবং সেখানে বলা বক্তব্যের দায় ভারতের নয়।
সেপ্টেম্বরে ব্রিকস সম্মেলন ও ভারতের আমন্ত্রণ
আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ব্রিকস (BRICS) সম্মেলন। বর্তমানে বাংলাদেশ ‘বিমসটেক’ (BIMSTEC)-এর চেয়ারম্যান পদে থাকায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিপূর্বেই তারেক রহমানকে এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তারেক রহমান সেপ্টেম্বরে দিল্লি সফর করবেন কি না, তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, আজকের এই তারেক-দীনেশ বৈঠক দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।