পুলিশের ফেসবুক লাইভ এনকাউন্টার মামলায় বিরাট মোড়, ১১ পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে জারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা!

বিহারের বহুচর্চিত ভারত ভূষণ তিওয়ারি এনকাউন্টার মামলায় অবশেষে অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিল আরার সিজেএম (CJM) আদালত। এই বিতর্কিত পুলিশি এনকাউন্টারে জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ জন পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (NBW) জারি করা হয়েছে। আগামী ১২ই আগস্টের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার চরম নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালতের এই কঠোর অবস্থানের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সহকর্মীদের গ্রেপ্তার করা বিহার পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা?
আদালত সূত্রে খবর, পরোয়ানা জারি হওয়া অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন তৎকালীন এসডিএম সঞ্জিত কুমার, তৎকালীন জগদীশপুরের এসডিপিও রাজেশ কুমার শর্মা, তৎকালীন শাহপুর থানার ইনচার্জ রাজেশ মালাকার, ইন্সপেক্টর অঙ্কিত আরিয়ান, হরিশচন্দ্র কুমার, এএসআই রামশঙ্কর যাদব এবং এসটিএফ কর্মী অক্ষয় কুমার ও বিকাশ কুমার সহ মোট ১১ জন। এর মধ্যে এসটিএফ জওয়ান অক্ষয় কুমারকে ইতিপূর্বেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সঞ্জীব কুমার জানান, এনকাউন্টার মামলার তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট পেশ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আদালতে একটি পিটিশন দাখিল করা হয়েছিল। সেই আবেদনের শুনানির পরই আদালত এই জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারির আদেশ দেয়।
ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন?
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ জুন সকালে। ভারত ভূষণ তিওয়ারি আচমকাই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে একটি ফেসবুক লাইভ করেন। লাইভে দেখা যায়, একটি নির্জন জায়গায় বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ভোজপুর পুলিশ এবং এসটিএফ (STF)-এর একটি দল তাঁকে ঘিরে ফেলেছে।
ক্যামেরার সামনে ভারত ভূষণ নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেন। তিনি অভিযোগ তোলেন, কোনো অপরাধ না করা সত্ত্বেও সাজানো মামলায় ফাঁসাতে তাঁকে ঘিরে ফেলেছে পুলিশ। ভিডিওর শেষ মুহূর্তে তিনি পুলিশের দিকে নিজের অস্ত্র ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে আত্মসমর্পণের ঘোষণা করেন। এর পরপরই লাইভটি বন্ধ হয়ে যায়।
পুলিশের যুক্তি ও বিতর্ক: পুলিশের দাবি ছিল, আত্মসমর্পণের নাটক করার পর ভারত ভূষণ আচমকা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করেছিলেন। জবাবে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে তাঁর পায়ে গুলি লাগে। তবে লাইভ ভিডিওতে আত্মসমর্পণের দৃশ্য স্পষ্ট থাকায় এই এনকাউন্টার নিয়ে শুরু থেকেই রাজ্যজুড়ে নানা প্রশ্ন উঠছিল।
আদালতের এই পরোয়ানার পর মামলাটি এক নতুন মোড় নিল। এখন দেখার, ১২ই আগস্টের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রশাসন অভিযুক্ত আধিকারিকদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করতে পারে কি না।