‘এবার সরকারিভাবে পালিত হবে রাখিবন্ধন’, তেরঙ্গা মিছিলে দাঁড়িয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর!

কলকাতা: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেখানো পথেই জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতির বার্তা দিতে রাজ্যে এবার সরকারি স্তরে পালিত হতে চলেছে রাখিবন্ধন উৎসব। সোমবার মেয়ো রোডে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচির সূচনামঞ্চ থেকে এই বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
উল্লেখ্য, ব্রিটিশদের বঙ্গভঙ্গ চক্রান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই রাখিবন্ধন উৎসবের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িকতার সূচনা করেছিলেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে এই উৎসব কেবল নির্দিষ্ট কিছু দলের রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, মেলেনি কোনো সরকারি স্বীকৃতি। এবার সেই ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার করে সরকারিভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নিল বর্তমান সরকার।
“রাখির ধর্মীয় মাহাত্ম্যকে শ্রদ্ধার পাশাপাশি পারস্পরিক সামাজিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করাই এর মূল উদ্দেশ্য। রাখি উৎসবের মধ্য দিয়ে রাজ্যবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করে পশ্চিমবঙ্গকে নবনির্মাণ করা এবং দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজ্যে পরিণত করার অঙ্গীকার নিলাম আমি।” — শুভেন্দু অধিকারী, মুখ্যমন্ত্রী
এ দিন মেয়ো রোডের গোষ্ঠ পাল সরণিতে তেরঙ্গা পদযাত্রার সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে পার্ক স্ট্রিট হয়ে মিছিলটি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের নর্থ গেটে গিয়ে শেষ হয়। ‘প্রতিটি বাড়িতে তেরঙ্গা’ লেখা মূল ব্যানারের পেছনে হাজার হাজার সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে গোটা এলাকা যেন একখণ্ড তেরঙ্গায় পরিণত হয়েছিল। রাজ্য সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এই বর্ণাঢ্য মিছিলে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি পা মেলান বিধায়ক রত্না দেবনাথ, মন্ত্রী অর্জুন সিংহ, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, দীপক বর্মণ, বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ ও কৌস্তভ বাগচী-সহ একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধিরা।