স্বাধীনতার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! অবশেষে বাড়ির অন্ধকার দূর করে জ্বলল বিদ্যুতের আলো

স্বাধীনতার দীর্ঘ এতগুলি বছর পরেও যেখানে আলোর ছোঁয়া মেলেনি, জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি ব্লকের মাগুরমাড়ি ১ নং পঞ্চায়েত এলাকার সেই ছয়টি পরিবারে অবশেষে প্রথমবার বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছাল। প্রধান সড়ক থেকে বাড়ির দূরত্ব অনেক বেশি থাকায় বিদ্যুৎ দপ্তর দীর্ঘদিন ধরে গড়িমসি করছিল বলে অভিযোগ ছিল। দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনা পেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমলে রাজ্যে নতুন সরকার আসার পরই এই পরিবারগুলির ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলল। এতদিন লণ্ঠন ও কুপি জ্বালিয়ে রাত কাটাতে বাধ্য হওয়া এই মানুষগুলির চোখে-মুখে এখন খুনের ঝিলিক, কারণ ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আর কুপিবাতির আলোয় নয়, বরং বৈদ্যুতিক আলোর নিচেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারগুলির আমলে পঞ্চায়েত থেকে বিদ্যুৎ দপ্তর—সর্বত্র বহুবার আবেদন করেও কোনো সুরাহা মেলেনি। বয়স্ক সদস্যরা তো জীবনের শেষ সময়ে এসে ঘরে আলো দেখার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। তবে স্থানীয় বিজেপির বুথ সভাপতি লিটন ঘোষের দীর্ঘ ছয় বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় এই অসাধ্য সাধন সম্ভব হয়েছে। যদিও বিদ্যুতের আলো পৌঁছানোর পর এই পরিবারগুলির যাতায়াতের রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ রয়েই গিয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, বিদ্যুতের মতো এবার এই অবহেলিত রাস্তাঘাট সংস্কারের জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, যা এই জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের আরেকটি বড় সমস্যার চিরতরে সমাধান করবে।