রাঁচিতে চাকরিপ্রার্থীদের রক্তক্ষয়ী আন্দোলন: অনশনের ৯ম দিনে বিধানসভা অভিযানে পুলিশি লাঠিচার্জ, হাসপাতালে ভর্তি দেবেন্দ্র!

রাঁচিতে চাকরিপ্রার্থীদের বিধানসভা অভিযানকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র ঝাড়খণ্ড! অনশনের ৯ম দিনে পুলিশের লাঠিচার্জে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হলেন যুবনেতা দেবেন্দ্র নাথ মহাতো।
ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) এবং স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (JSSC) নিয়োগ পরীক্ষায় একের পর এক অসঙ্গতি ও দুর্নীতির অভিযোগে বেশ কিছুদিন ধরেই ফুটছিল রাজ্য। সোমবার সেই ক্ষোভের আগুন আছড়ে পড়ে রাঁচির বিধানসভা ঘেরাও অভিযানে। পুলিশ ও চাকরিপ্রার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে রীতিমতো রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়।
চাকরির পরীক্ষায় স্বচ্ছতার দাবিতে টানা ৯ দিন ধরে অনশন করছিলেন ‘ঝাড়খণ্ড গণতান্ত্রিক বিপ্লবী মোর্চা’র (JLKM) তরুণ মুখ দেবেন্দ্র নাথ মহাতো। শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হওয়া সত্ত্বেও সোমবার তিনি অ্যাম্বুলেন্সে চেপেই এই ঘেরাও কর্মসূচিতে হাজির হন। হুইলচেয়ারে বসে, হাতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবু সোরেনের ছবি নিয়ে হুঙ্কার দিয়ে দেবেন্দ্র বলেন:
“অনশনে থাকা সত্ত্বেও কোনো কাঁটাতারের বেড়া আমাদের থামাতে পারবে না। ছাত্রদের ন্যায্য দাবি মেনে নিতে এই সরকারকে বাধ্য করবই।”
বিক্ষোভ মিছিলটি বিধানসভার দিকে এগোতেই কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পুলিশ। দেবেন্দ্রর সহযোগীদের দাবি, অনশনক্লিষ্ট দেবেন্দ্রর ওপরও লাঠিচার্জ করা হয়, যার ফলে তিনি গুরুতর জখম হন। রক্তে শর্করার মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় তাঁকে দ্রুত রাঁচি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও চারজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন।
ঘটনাচক্রে, সোমবার ছিল রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন-এর জন্মদিন। সেই দিনেই আন্দোলন থেকে সরকারের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে দেবেন্দ্র বলেছিলেন, “আমরা রক্তপাত চাই না। বলপ্রয়োগ করে পরিস্থিতি আরও জটিল করা হচ্ছে। সরকার দাবি না মানলে গণতন্ত্র হত্যার জন্য ইতিহাস এদের ক্ষমা করবে না। আমি প্রাণ গেলেও অনশন ভাঙব না।”
এই ঘটনার পর থেকে ঝাড়খণ্ডের রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চরম আকার ধারণ করেছে।