ক্যাটারিং ট্রাকে লুকিয়ে বিমান বদল! ইরানের ‘হিটলিস্টে’ থাকা ট্রাম্পকে নিয়ে তোলপাড়

তাঁকে হত্যা করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা আগেই প্রকাশ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের নাম রয়েছে ইরানের ‘হিটলিস্টে’, এ কথা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। মাসখানেক আগে তুরস্ক থেকে আমেরিকা ফেরার পথে তাঁর হঠাৎ বিমান বদল করা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কম শোরগোল হয়নি। এবার সেই ঘটনাতেই উঠে এল এক বিস্ফোরক তথ্য।
‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর একটি নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সেবার নিরাপত্তার চরম ঝুঁকিতে পড়ে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে সামরিক বিমানে চেপে দেশে ফেরেন ট্রাম্প। এমনকি বিমানবন্দরে চোখ এড়াতে তাঁকে একটি ফুড ক্যাটারিং ট্রালেও লুকাতে হয়েছিল!
আসল ঘটনাটি কী ঘটেছিল?
হোয়াইট হাউজের তরফ থেকে প্রথমে জানানো হয়েছিল যে, তুরস্কের ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্প ব্রিটেনের একটি বিমানঘাঁটিতে নামেন এবং সেখান থেকে নিজের পুরনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ করে আমেরিকায় রওনা হন।
কিন্তু ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, আসল চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন:
- নাটকীয় শুরু: আঙ্কারা বিমানবন্দরে সবার চোখ ধাঁধাতে ট্রাম্প প্রকাশ্যে পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন।
- গোপন অপারেশন: এরপর বিমানবন্দরের সুরক্ষিত এলাকায় অত্যন্ত গোপনে তাঁকে একটি ফুড ক্যাটারিং ট্রাকে করে অন্য একটি ছোট বিমানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।
- সামরিক বিমানে পাড়ি: ট্রাক থেকে নামিয়ে তাঁকে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ US Air Force C-32A বিমানে তুলে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে এই ছোট বিমানটি রাত ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ ব্রিটেনে পৌঁছায়। তার বেশ কিছু সময় পর ট্রাম্পের আসল এয়ার ফোর্স ওয়ান এবং সাংবাদিকদের বহনকারী বিমানটি সেখানে গিয়ে পৌঁছায়।
নেপথ্যে ইরানের বিষাক্ত হুমকি
কেন এত নিরাপত্তা ও লোকচক্ষুর অন্তরালে যাওয়া? জানা গেছে, ট্রাম্পের সেই সফর চলাকালীন ইরানের সঙ্গে আমেরিকার কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে ওঠে। ইরান থেকে ট্রাম্পের প্রাণনাশের সরাসরি হুমকি পাওয়ার পরেই এই চরম গোপনীয় পদক্ষেপ নেয় মার্কিন প্রশাসন।
যদিও নিজের ইগো ও নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রাম্প তখন এই বিমান বদলের মূল কারণ এড়িয়ে গিয়েছিলেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন, “আমাকে সবসময় হুমকির মুখেই থাকতে হয়, ওদের হিটলিস্টে আমি এক নম্বরে। তবে পুরনো দিনের কথা মনে করতেই নাকি আমি পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়তে চেয়েছিলাম।”
তবে ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর এই প্রতিবেদন ফাঁস হতেই স্পষ্ট হয়ে গেছে, সেদিনের ঘটনাটি স্রেফ স্মৃতিচারণ ছিল না, ছিল প্রাণ বাঁচানোর এক চরম গোপন লড়াই।