ভক্তি থেকে অর্থনীতি: কানওয়ার যাত্রায় উত্তরপ্রদেশে ১৫০০ কোটি টাকার রমরমা ব্যবসা, নেপথ্যে যোগী সরকারের সুপরিকল্পিত মডেল

লখনউ: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ধর্মীয় পর্যটন বিকাশ এবং রাজ্যকে ‘১ ট্রিলিয়ন ডলার’-এর অর্থনীতিতে পরিণত করার স্বপ্নে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ঐতিহাসিক কানওয়ার যাত্রা। কাঁধে বাঁশ, পরনে গেরুয়া বসন আর ‘বোল বাম’ ধ্বনিতে মুখরিত কোটি কোটি ভক্তের এই যাত্রা কেবল ধর্মীয় ভাবাবেগের প্রতীক নয়, বরং রাজ্যের সার্বিক অর্থনীতির জন্য এক বিরাট বরদান হয়ে উঠেছে।
বারাণসী, প্রয়াগরাজ বা মথুরার মতো তীর্থক্ষেত্রের পাশাপাশি কানওয়ার যাত্রাও আজ উত্তরপ্রদেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে বড় ভূমিকা পালন করছে।
১৫০০ কোটি টাকার বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড
লখনউয়ের ‘গিরি ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, আগে এই যাত্রা থেকে রাজ্যে প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার ব্যবসা হতো। তবে ২০১৭ সালের পর থেকে ভক্ত সংখ্যা অভাবনীয় হারে বাড়ায় বাজারের পরিধিও হু হু করে বেড়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি শ্রাবণ মাসে কানওয়ার যাত্রা থেকে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক লেনদেন হতে চলেছে।
সবচেয়ে আশার কথা হলো, কোনো বড় মূলধনী বিনিয়োগ ছাড়াই রাস্তার ধারের ছোট দোকানদার, ধাবা মালিক, পরিবহন কর্মী, তাঁবু ব্যবসায়ী, ফল ও ওষুধ বিক্রেতা থেকে শুরু করে সমাজের একদম শেষ প্রান্তে থাকা দিনমজুররা সরাসরি এই অর্থ প্রবাহের সুফল পাচ্ছেন।
কোন খাতে কেমন চাহিদা?
- পোশাক ও ধর্মীয় সামগ্রী: মহাদেবের ছবি ও স্লোগানযুক্ত গেরুয়া টি-শার্ট (দাম ৮০-৫০০ টাকা), গামছা, ওয়াটারপ্রুফ মোবাইল কেস এবং সাজানো স্টিলের কলসির চাহিদা এবার তুঙ্গে।
- খাবার ও হোটেল শিল্প: রাস্তার ধারের ছোট খাবারের দোকান ও ধাবাগুলো সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে। এমনকি, সাধারণ দিনমজুররাও এই সময়ে ধাবায় কাজ করে দৈনিক প্রায় ৬০০ টাকা আয় করছেন এবং বিনামূল্যে পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছেন।
- পরিবহন খাত: কানওয়ারিদের যাতায়াতে মুজাফফরনগর ডিপো থেকেই হরিদ্বার রুটে প্রতিদিন ৬০টি রাজ্য সরকারি বাস চালানো হচ্ছে। প্রয়োজনে বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
যোগী সরকারের সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা
ভক্তদের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং ব্যবসা নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসন বিশেষ নীতি গ্রহণ করেছে:
- কানওয়ার যাত্রার পুরো রুটে মাংস ও মদের দোকান সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা।
- খাবারের দোকানে ফুড লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা।
- সাউন্ড সিস্টেম বা ডিজে-র মাত্রা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখা।
উপসংহার
অযোধ্যা বা নৈমিষ্যারণ্যের মতো তীর্থক্ষেত্রের পাশাপাশি ‘সুগম দর্শন’ স্কিম এবং এই কানওয়ার যাত্রা প্রমাণ করেছে যে—সুশৃঙ্খল প্রশাসন ও জনআস্থার সঠিক সমন্বয় ঘটলে বড় বিনিয়োগ ছাড়াই হাজার হাজার কোটি টাকার অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব। এই মডেল প্রমাণ করে, ধর্মীয় পর্যটন কেবল বড় শিল্পপতিদের নয়, বরং সমাজের সাধারণ মানুষের পকেটেও সমৃদ্ধি পৌঁছে দিতে পারে।