“নিজের পায়ে দাঁড়াও, কারো ওপর নয়!” প্রীতি জিন্টার বাবার যে বার্তা প্রতিটি অভিভাবকের পড়া উচিত

সন্তানকে শিক্ষিত করা মানেই কি কেবল ভালো রেজাল্ট, বড় ডিগ্রি কিংবা মোটা অঙ্কের চাকরি? অধিকাংশ অভিভাবক এমনটা ভাবলেও শিক্ষার প্রকৃত অর্থ কিন্তু আরও গভীর। প্রকৃত শিক্ষা শিশুর মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাস জোগায়, যা তাকে জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার শক্তি দেয়। বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি জিন্টার জীবন এবং তাঁর বাবার দেওয়া এক অনন্য শিক্ষা সেই সত্যকেই আবার মনে করিয়ে দেয়।
২০১০ সালে ইউনিভার্সিটি অফ ইস্ট লন্ডন থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি নেওয়ার সময় প্রীতি জিন্টা তাঁর বাবার দেওয়া এই অমূল্য পরামর্শের কথা প্রকাশ করেছিলেন।
মেয়েকে শুধু পড়ালেখা নয়, আত্মনির্ভরশীল করুন
প্রীতির বাবা সব সময় চেয়েছেন তাঁর মেয়ে যেন জীবনযুদ্ধে কারো মুখাপেক্ষী না হয়। ছোটবেলা থেকেই প্রীতিকে তিনি শিখিয়েছিলেন—বাবা, স্বামী কিংবা সন্তানের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করা উচিত। আর এই আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের মূল চাবিকাঠিই হলো শিক্ষা। মেয়েদের শিক্ষাকে কেবল বিয়ে বা চাকরির বাহন না বানিয়ে, তাদের এমনভাবে গড়ে তোলা উচিত যাতে তারা নিজেদের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে পারে।
ভালো রেজাল্টের চেয়েও জরুরি আত্মবিশ্বাস
সব শিশুর মেধা এক রকম হয় না। কেউ বইয়ের পাতায় সেরা, আবার কেউ খেলাধুলা বা সংস্কৃতিতে। তাই ভালো গ্রেডের জন্য সন্তানের ওপর অযথা চাপ না দিয়ে, তার ভেতরের আসল সম্ভাবনাকে বিকশিত হতে সাহায্য করাই মা-বাবার প্রধান দায়িত্ব। প্রীতি তাঁর পরিবার থেকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী পড়ার ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা পেয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে তাঁকে একজন স্বাবলম্বী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।
আত্মনির্ভরশীলতার প্রকৃত অর্থ
- সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা: মেয়েকে স্বাবলম্বী করার অর্থ শুধু আর্থিক স্বাধীনতা নয়। এর আসল অর্থ হলো—ভুল ও সঠিকের পার্থক্য বুঝতে পারা, নিজের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা এবং কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার না করা।
- সংকট মোকাবিলার শক্তি: শৈশবেই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল প্রীতিকে। মাত্র ১৩ বছর বয়সে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি বাবাকে হারান এবং তাঁর মা গুরুতর আহত হন। এই কঠিন পরিস্থিতি প্রীতিকে অকালেই পরিণত ও শক্ত মানসিকতার মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। জীবন সব সময় সোজা পথে চলে না, তাই সফলতার পাশাপাশি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার শিক্ষাও সন্তানকে দেওয়া জরুরি।
অভিভাবকদের জন্য শিক্ষা
প্রীতি জিন্টার এই গল্প প্রতিটি বাবা-মায়ের জন্য এক বড় বার্তা। কন্যাসন্তানকে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা কোনো সাধারণ দায়িত্ব নয়, বরং তাকে নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে দেওয়ার এক মহৎ প্রয়াস। মেয়ে ভবিষ্যতে কী পেশা বেছে নেবে তা তার ব্যক্তিগত বিষয়, কিন্তু জীবনের প্রতিটি মোড়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাসটুকু যেন সে পায়—প্রতিটি অভিভাবকের এটাই নিশ্চিত করা উচিত।