“বিরোধীরা শান্ত থাকলে জবাব দেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী”, সংসদে নিট ঝড়ে স্পিকারের হস্তক্ষেপ!

নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দিল্লিতে প্রতিবাদী ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনার প্রতিবাদে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠল দেশের সংসদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সরাসরি বিবৃতির দাবিতে বিরোধীদের টানা হট্টগোলের জেরে স্থবির হয়ে পড়েছে লোকসভা ও রাজ্যসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেই এই বিষয়ে বিস্তারিত জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে রিজিজুর পরিষ্কার শর্ত—বিরোধীদের হট্টগোল থামিয়ে শান্ত মনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য পুরোটা শুনতে হবে। কিন্তু সোমবার সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রীর এই ঘোষণার পরও বাস্তবে কোনো বিবৃতি না আসায় আজও প্রশ্ন উঠেছে—আজ কি আদৌ সংসদে নিজের বক্তব্য পেশ করবেন অমিত শাহ?
সংসদে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি:
কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টিসহ বিরোধী দলগুলো নিট কাণ্ডের পাশাপাশি অযোধ্যার রাম মন্দিরে প্রসাদ চুরির অভিযোগ ও ছাত্রদের ওপর পুলিশি বর্বরতার প্রতিবাদ তুলে সুর চড়ায়। বিরোধী সাংসদদের হইচই ও স্লোগানের মুখে দফায় দফায় মুলতবি করতে হয় সংসদের অধিবেশন।
অচল উভয় সভা
সরকার আলোচনার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও সংসদের অচলাবস্থা কাটেনি:
- লোকসভা: মঙ্গলবার সকালে অধিবেশন শুরু হতেই বিরোধী দলগুলো প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও স্লোগান দিতে শুরু করে। বাধ্য হয়ে দুপুর ২টো পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
- রাজ্যসভা: উচ্চকক্ষ রাজ্যসভাতেও এক ও অভিন্ন চিত্র দেখা যায়। বিরোধীদের হট্টগোলের জেরে প্রথম দফায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি রাখতে হয়।
ক্ষুব্ধ স্পিকার ওম বিড়লা
সংসদের এই লাগাতার অচলাবস্থা ও অনভিপ্রেত দৃশ্যে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন,
“বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠকেই বলা হয়েছিল যে ছাত্র সমস্যা নিয়ে আলোচনার দাবি মেনে সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রস্তুত। কিন্তু তা সত্ত্বেও যা ঘটছে, তা সংসদীয় শিষ্টাচারবিরোধী। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের সংসদে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করা একেবারেই মানায় না। এই লাগাতার অচল অবস্থা আমাকে ব্যথিত করেছে।”
স্পিকার সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যেহেতু বিরোধীদের মূল দাবি মেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভাষণ দিতে রাজি হয়েছেন, তাই এবার সুস্থ আলোচনার পথ উন্মুক্ত করা উচিত। তবে বর্ষাকালীন অধিবেশনের শুরু থেকেই যেভাবে নিট ও ছাত্র আন্দোলন নিয়ে সংসদ অচল হয়ে পড়েছে, তাতে আগামী দিনে এই অচলাবস্থা কাটে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে দেশবাসী।