‘সবে ট্রেলার দেখছেন, আরও অনেক কিছু সহ্য করতে হবে’, মমতাকে ‘চোর’ স্লোগান ইস্যুতে বিস্ফোরক দিলীপ

‘সবে ট্রেলার দেখছেন, আরও অনেক কিছু সহ্য করতে হবে’, মমতাকে ‘চোর’ স্লোগান ইস্যুতে বিস্ফোরক দিলীপ

রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে ফের খোলা হয়েছে ‘অভয়া’ হত্যা মামলার ফাইল। আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও নৃশংস খুনের ঘটনায় জোরকদমে শুরু হয়েছে নতুন করে তদন্ত। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই ঘটনায় যুক্ত কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার দিন আরজি কর হাসপাতাল থেকে গ্রিন করিডোর করে তড়িঘড়ি তরুণীর দেহ জলহাটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

পুরোনো সেই বিতর্কের আগুনে এবার ঘি ঢাললেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। একই সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে জনরোষ ও ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া নিয়েও ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ে ক্ষুদিরাম বসুর ছবিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে ‘চোর চোর’ স্লোগান ওঠে বলে অভিযোগ। এই প্রসঙ্গে বুধবার সকালে দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেন, “কতটা অমানবিক পরিস্থিতি ভাবুন! আজ কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘চোর’ স্লোগান শুনতে হচ্ছে বা জুতো-চপ্পল খেতে হচ্ছে?”

এর পরেই ‘অভয়া’র দেহ তড়িঘড়ি দাহ করা নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। দিলীপ বাবু বলেন, “একজন মহিলা ডাক্তার ৩৬ ঘণ্টা ডিউটি করার পর তাঁর ওপর পাশবিক অত্যাচার চালিয়ে তাঁকে মেরে ফেলা হলো। তারপর দেহ দ্রুত সৎকার করতে হাসপাতাল থেকে শ্মশান পর্যন্ত গ্রিন করিডোর তৈরি করা হলো! বাবা-মাকে পর্যন্ত মেয়ের দেহ দেখতে দেওয়া হয়নি। নান্টু ঘোষ অভিভাবক সেজে সমস্ত নথিতে সই করে দিল! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে দাঁড়িয়ে থেকে এসব করিয়েছিলেন। এটা তো সবে শুরু, সবে ট্রেলার দেখছেন। ওনাকে সামনে আরও অনেক কিছু সহ্য করতে হবে।”

পাশাপাশি তৃণমূল নেতা দেবরাজের বিপুল সম্পত্তি উদ্ধারের ঘটনা নিয়েও খোঁচা দেন দিলীপ ঘোষ। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “বাঙালির যে এত টাকা থাকতে পারে, তা আগে কখনো শুনিনি। বড় মাড়োয়ারি শিল্পপতিরা কোটি কোটি টাকার মালিক—সেটা জানতাম। কিন্তু বাঙালি কিছু না করেই কোটিপতি হয়ে যাচ্ছে, এই অলৌকিক ঘটনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ঘটিয়েছেন। তাঁর দলের অধিকাংশ নেতাই এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। কেষ্ট মণ্ডল কোনো দিন পঞ্চায়েত প্রধানও হননি, অথচ তিনি ৬০০ কোটির মালিক! ওই জেলারই আরেক নেতা সম্প্রতি সাড়ে ৩০০ কোটির মালিক বলে জানা গেল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি এসব অস্বীকার করতে পারবেন? এসবের কারণেই আজ ওনাকে এই ধরণের স্লোগান শুনতে হচ্ছে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *