“তেরঙার ইতিহাস ১৯৪৭ থেকেই, ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়া নয়”— ঐতিহাসিক ত্যাগের বার্তা দিয়ে শ্রীনগরে বর্ণাঢ্য তিরঙ্গা র্যালি

৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে জম্মু-কাশ্মীরে শুরু হয়েছে এক অভূতপূর্ব উল্লাস। বুধবার শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মীর ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টার (SKICC) থেকে একটি বিশাল ‘তিরঙ্গা র্যালি’-র সূচনা করেন জম্মু ও কাশ্মীরের উপ-রাজ্যপাল মনোজ সিনহা। এই রঙিন শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে গোটা শ্রীনগর শহর জাতীয় পতাকায় ঢেকে যায়।
কাশ্মীরের জাতীয়তাবাদ নতুন নয়: সুরিন্দর চৌধুরী
র্যালি চলাকালীন সংবাদসংস্থা ANI-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরী স্পষ্ট জানান, কাশ্মীরের মানুষের মনে জাতীয় পতাকার প্রতি টান কোনো নতুন ঘটনা নয়। ৩৭০ ধারা বাতিলের সঙ্গে এর তুলনা না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন:
“১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট থেকেই উপত্যকায় তেরঙা সগৌরবে উড়ছে। ২০১৯ সালের ৫ আগস্টের আগেও মানুষ যেভাবে জাতীয় উৎসব উদযাপন করত, আজও ঠিক একই উদ্দীপনা বজায় রয়েছে। তেরঙার মান রক্ষা করতে কাশ্মীরবাসী যুগে যুগে অগণিত আত্মত্যাগ করেছে।”
অন্ধকার থেকে আলোর দিশা
অন্যদিকে, জম্মু ও কাশ্মীর ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারপার্সন দরখশান আন্দ্রাবি কাশ্মীরের বর্তমান সামাজিক পরিবর্তনের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি মন্তব্য করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে জম্মু-কাশ্মীর আজ এক অন্ধকার অতীত পেছনে ফেলে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
আন্দ্রাবির মতে, গত ৩৫ বছর ধরে কাশ্মীরে যে দৃশ্য অধরা ছিল, আজ তা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এখন কেবল বাড়ির ছাদেই নয়, কাশ্মীরের তরুণ প্রজন্ম ও শিশুদের মন এবং চোখেও স্বাচ্ছন্দ্যে উড়ছে দেশের জাতীয় পতাকা।
দেশজুড়ে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ ও ১৫০ বছরের ‘বন্দে মাতরম’
শ্রীনগরের এই বর্ণাঢ্য র্যালিটি বস্তুত কেন্দ্র সরকারের ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০২২ সালে ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’-এর অধীনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই উদ্যোগের সূচনা করেছিলেন, যার মূল উদ্দেশ্য প্রতিটি নাগরিকের মনে জাতীয় পতাকার প্রতি এক আত্মিক টান গড়ে তোলা।
২০২৬ সালের বিশেষ আকর্ষণ:
- ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি: চলতি বছরের উদযাপনে মূল আকর্ষণ হলো জাতীয় গীতি ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর উদযাপন।
- কর্মসূচি: ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত তিরঙ্গা র্যালি, প্রদর্শনী, বিশেষ কনসার্ট, বাইক-সাইকেল র্যালি এবং আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
- অন্যান্য উদ্যোগ: ‘বন্দে মাতরম-এর প্রতি তিরঙ্গা স্যালুট’ থিমের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে অত্যন্ত জনপ্রিয় “সেলফি উইথ তিরঙ্গা” ক্যাম্পেইনও পুরোদমে চলছে।