বিচারপতির বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য! নজিরবিহীন পদক্ষেপ কি নড়বড়ে করবে আইনজীবীর কেরিয়ার?
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/06/18/High%20court-a2e77e2c.jpg?ssl=1)
কলকাতা হাইকোর্টের এক বিচারপতির বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি অবমাননার মামলায় অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছে আদালত। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, রায়ের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু বিচারপতির বিরুদ্ধে কটূক্তি করা বা ব্যক্তিগত আক্রমণ চালানো আইনজীবীর কাজ নয়। রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানোই একমাত্র সঠিক আইনি পথ। আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি সাধারণ কেউ নন, বরং একজন আইনজীবী। ফলে এমন গর্হিত অপরাধ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই বিষয়ে নীরব থাকলে দেশজুড়ে ভুল বার্তা যেতে পারে যে বিচারপতির বিরুদ্ধে কটূক্তি করলেও বিচারালয় নীরব থাকে, যা কখনোই বরদাস্তযোগ্য নয়।
আইনজীবী সমাজের গরিমা বজায় রাখতে অভিযুক্তকে বেশ কিছু কঠোর শর্ত মেনে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট একক বেঞ্চের সামনে গিয়ে তাঁকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং আদালতের লাইভ স্ট্রিমিং চলাকালীন বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না মর্মে লিখিত মুচলেখা বা হলফনামা জমা দিতে হবে। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাঁর ক্ষমা প্রার্থনা ও লিখিত অঙ্গীকার আদৌ গ্রহণযোগ্য কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখার পরই মামলার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ক্ষমা সাপেক্ষে রেহাই মিললেও এই ঘটনা যে বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এক গুরুতর নজির হয়ে থাকবে, তা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্পষ্ট করে দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।