পাঁচ মিনিটের কাজ, সন্তানকে বাইরে রেখে ল্যাপটপ জমা! করপোরেটের নির্মম অভিজ্ঞতার কথা জানালেন প্রাক্তন কর্মী

পাঁচ মিনিটের কাজ, সন্তানকে বাইরে রেখে ল্যাপটপ জমা! করপোরেটের নির্মম অভিজ্ঞতার কথা জানালেন প্রাক্তন কর্মী

চাকরি হারানোর পর ল্যাপটপ ফেরত দিতে গিয়ে করপোরেট দুনিয়ার এক নির্মম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন এক ব্যক্তি। সঙ্গে দুই বছরের শিশুসন্তান থাকায় তাকে অফিসের ভেতরে ঢুকতেই দেওয়া হলো না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রেডিটে নিজের এই কষ্টের কথা শেয়ার করার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, ওই ব্যক্তি ব্ল্যাকরকের (BlackRock) অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান ‘প্রেকইন’-এ (Preqin) কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। অফিসের শেষ দিনের নিয়ম অনুযায়ী ল্যাপটপ জমা দিতে তাকে সশরীরে অফিসে যেতে হয়েছিল। স্ত্রী কাজে ব্যস্ত থাকায় ঘরে ২ বছরের সন্তানকে সামলানোর কেউ ছিল না। তাই বাধ্য হয়েই তিনি সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে যান। ভেবেছিলেন, স্রেফ ৫ মিনিটের মধ্যে ল্যাপটপ জমা দিয়ে বেরিয়ে আসবেন। কিন্তু অফিসে পৌঁছানো মাত্রই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন— কোনো শিশুকে অফিসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে না।

চাকরি খোয়ানো ওই কর্মী নিজের পরিস্থিতি বোঝানোর অনেক চেষ্টা করেন। জানান, এটিই তার শেষ দিন এবং কাজ শেষ হতে মাত্র কয়েক মিনিট লাগবে। কিন্তু অফিসের নিয়ম মানতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ একটুও নমনীয় হয়নি। বাধ্য হয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা এক প্রাক্তন সহকর্মীর জিম্মায় সন্তানকে রেখে তিনি ল্যাপটপ জমা দিতে ভেতরে যান। যে কাজটি ৫ মিনিটে শেষ হওয়ার কথা ছিল, তা মেটাতে প্রায় ১৫ মিনিট সময় লেগে যায়।

ওই কর্মী অবশ্য স্বীকার করেছেন যে, অতিথি বা শিশুদের নিয়ে অফিসে কোনো নিজস্ব নীতি থাকতেই পারে এবং কো ম্পা নি কোনো আইন ভাঙেনি। তবে চাকরি হারানোর পর মুহূর্তেই এমন আচরণ তাকে করপোরেট জগতের কঠিন বাস্তবতা চিনিয়ে দিয়েছে। তার কথায়—

“দিনের শেষে কো ম্পা নি একটি ব্যবসাই। বছরের পর বছর ধরে অতিরিক্ত সময় দেওয়া বা কো ম্পা নিকে নিজের জীবনের অংশ বানিয়ে নেওয়ার শেষ পরিণতি স্রেফ একটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত।”

অন্যান্য চাকুরিজীবীদের উদ্দেশ্যে তিনি পরামর্শ দেন, কাজকে যেন কেউ নিজের পুরো পরিচয় না বানিয়ে ফেলেন। কাজের বাইরেও পরিবার ও নিজের একটি জীবন গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এর আগে তিনি একই অফিসের এক এইচআর (HR) কর্মীকে নিজের সন্তানকে অফিসে নিয়ে আসতে দেখেছিলেন, যা দেখে তার মনে হয়েছিল হয়তো শিশুদের আনা যাবে।

রেডিটে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনরা ওই ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন এবং সংস্থাটির অতিরিক্ত কঠোর আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন। অনেকে মন্তব্য করেছেন, এরকম পরিস্থিতিতে নিজের সময় ও অর্থ খরচ করে অফিসে যাওয়ার কোনো মানে হয় না, কুরিয়ারের মাধ্যমেই এসব ফেরত দেওয়া উচিত। অন্য অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, বড় বড় প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের ত্যাগ বা আবেগের কোনো মূল্য থাকে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *