ফাঁসির মঞ্চে ক্ষুদিরামের শেষ প্রশ্ন কী ছিল, যা চমকে দিয়েছিল জল্লাদকে!
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে অমর বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর আত্মত্যাগ আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে দেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি হাসিমুখে ফাঁসি বেছে নিয়েছিলেন। ১৮৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর মেদিনীপুরের হবিবপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া ক্ষুদিরাম কৈশোরেই ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। ১৯০৮ সালে কিংসফোর্ডকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং বিচারালয়ে দ্রুত নিজের দোষ স্বীকার করে নেন। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও তাঁর মনে বিন্দুমাত্র ভয় বা অনুশোচনা কাজ করেনি, যা তাঁর অবিচল মনোবলকে ফুটিয়ে তোলে।
১৯০৮ সালের ১১ অগস্ট মুজফফরপুর জেলে পরম সাহসিকতার সঙ্গে ফাঁসির মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান এই বীর বিপ্লবী। ফাঁসির ঠিক আগের মুহূর্তে তাঁর একটি মাত্র প্রশ্ন উপস্থিত জল্লাদ ও কারা আধিকারিকদের স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। নির্ভীক চিত্তে জল্লাদের দিকে তাকিয়ে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, ফাঁসির দড়িতে কেন মোম মাখানো হয়! মৃত্যুর সুনিশ্চিত ছায়ার নিচে দাঁড়িয়েও এমন স্বাভাবিক কৌতূহল এবং অদম্য মানসিক শক্তি ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক বিরল ও অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।