ধনঞ্জয়ের ফাঁসির ২২ বছর পরও মেটেনি বিতর্ক! ‘অন্যায় বিচার’ রুখতে বাঁকুড়ায় পুনঃতদন্তের জোরাল দাবি

২০০৪ সালের ১৪ আগস্ট ভোরে কলকাতার আলিপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল বাঁকুড়ার ছাতনার বাসিন্দা ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়কে। তবে ফাঁসির ২২ বছর অতিক্রান্ত হলেও তাঁর পরিবারের সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা এবং মানবাধিকার কর্মীদের মতে, তৎকালীন বিচারপ্রক্রিয়া ও তদন্তে মারাত্মক গলদ ছিল। ১৯৯০ সালে ভবানীপুরের একটি আবাসনে তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মূল অভিযুক্ত করা হয়েছিল নিরাপত্তারক্ষী ধনঞ্জয়কে। পরবর্তীতে দায়রা আদালত থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত সর্বস্তরেই তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয় এবং রাষ্ট্রপতির প্রাণভিক্ষার আবেদনও খারিজ হয়ে যায়। কিন্তু এই সম্পূর্ণ মামলাটি পরোক্ষ প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হওয়ায়, শুরু থেকেই এর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
এই বিতর্কের জেরেই শুক্রবার বাঁকুড়ার ছাতনায় ‘জাস্টিস ফর ধনঞ্জয়’ স্লোগান তুলে এবং নতুন কমিটি গঠন করে ফের পুনঃতদন্তের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন গ্রামবাসীরা। বাসুলি মন্দিরে পুজো দিয়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন ড. চন্দ্রচূড় গোস্বামী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, কোনও আবেগ নয়, বরং তথ্য ও নথির ভিত্তিতেই বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখতে পুনর্বিচারের দাবি করা হচ্ছে। ধনঞ্জয়ের দাদা বিকাশ চট্টোপাধ্যায়ও সংবাদমাধ্যমের কাছে অভিযোগ জানান যে, তাঁর ভাই অন্যায় বিচারের শিকার হয়েছিল এবং সত্য উন্মোচনে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। বর্তমানে মামলাটির প্রকৃত সত্য সামনে আনার লক্ষ্যেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।