‘ফালতু খরচ নয়, দায়িত্ববোধেই সেরা!’ জেন-জিদের আর্থিক জীবনের আসল সত্য ফাঁস

বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণী বা ‘জেন-জি’ (Gen-Z)-দের নিয়ে আমাদের সমাজে একধরনের ধরাবাঁধা ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, এরা কেবল ঘুরে বেড়াতে, শৌখিন জিনিস কিনতে আর অযথা টাকা ওড়াতেই ব্যস্ত! তবে সাম্প্রতিক একটি গবেষণা এই সমস্ত পুরনো ধারণাকে এক লহমায় ভুল প্রমাণ করে দিয়েছে। তথ্য বলছে, সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনা যা-ই বলুক না কেন, বাস্তব জীবনে আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষায় জেন-জিরা অত্যন্ত পরিপক্ক ও দায়িত্বশীল।
ফিনটেক প্ল্যাটফর্ম ‘স্যালারি-সি’ (SalarySe)-র একটি সমীক্ষায় এই চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। ভারতের প্রায় ৫ লক্ষ ২০ হাজারেরও বেশি বেতনভোগী তরুণ-তরুণীর লক্ষ লক্ষ ডিজিটাল ইউপিআই (UPI) লেনদেন বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
আয়ের সিংহভাগ কোথায় খরচ করে জেন-জি?
গবেষণায় দেখা গেছে, চাকরিজীবী জেন-জি তরুণ-তরুণীরা তাঁদের আয়ের বড় একটি অংশ খরচ করেন দৈনন্দিন প্রয়োজনীয়তা মেটাতে এবং বাধ্যতামূলক আর্থিক দায়িত্ব পালনে।
তাঁদের মোট ব্যয়ের ৭০ শতাংশেরই বেশি খরচ হয় মূলত পাঁচটি প্রধান খাতে:
- ইউটিলিটি বিল ও সাবস্ক্রিপশন: ২০.১% (মাসিক ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ)
- নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার (গ্রোসারি): ১৫.৭%
- আর্থিক পরিষেবা: ১২.২%
- কেনাকাটা বা শপিং: ১১.৯%
- খাবার-দাবার: ১১.৫%
ভ্রমণ ও আমোদ-প্রমোদে খরচের হার কত?
‘হাতে টাকা আসলেই ঘুরতে বেরোনো’— জেন-জিদের সম্পর্কে এই ধারণাও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, জেন-জি তরুণ-তরুণীরা তাঁদের মোট মাসিক বাজেটের মাত্র ৫ শতাংশ ঘোরাঘুরি বা ভ্রমণের পেছনে ব্যয় করেন। প্রতিদিনের বিল পরিশোধ ও প্রয়োজনীয় লেনদেনে ডিজিটাল পেমেন্টের এই বুদ্ধিমান ব্যবহার প্রমাণ করে যে, তাঁরা কতটা হিসেবি।
বয়স বাড়ার সঙ্গেই বাড়ছে আর্থিক পরিপক্কতা
SalarySe-এর গবেষণায় জেন-জি-দের দুটি বয়সসীমা (১৮-২৩ বছর এবং ২৪-২৯ বছর) বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে তরুণদের দায়িত্বও বাড়ে। ১৮-২৩ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে অপরিহার্য খরচের হার ছিল ৫০%, যা ২৪-২৯ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে বেড়ে দাঁড়ায় ৫৯%-এ। তবে উভয় বয়সের ক্ষেত্রেই শৌখিন বা ঐচ্ছিক খরচের হার ৩২ শতাংশে স্থির রয়েছে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, জেন-জি মানেই কেবল বিলাসিতা নয়, বরং সঠিক হিসেব মেনে আর্থিক দায়িত্ব সামলানোতেই তারা বিশ্বাসী।