সেনসাসের কাজে শিক্ষকদের টানা হ্যাঁচড়া! কলকাতা হাইকোর্টের কড়া ভর্ৎসনার মুখে রাজ্য

স্কুলে শিক্ষাদানের পাশাপাশি শিক্ষকদের সেনসাসের (জনগণনা) কাজে যুক্ত করার বিষয়ে রাজ্য সরকারের পদক্ষেপে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে শিক্ষকদের কাজের চাপ ও যাতায়াতের দূরত্বের বিষয়টি নিয়ে রাজ্যকে তীব্র ভর্ৎসনা করা হয়।
বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, প্রতিদিন প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে শিক্ষাদানের সাথে সেনসাসের কাজ করা কতটা বাস্তবসম্মত? নিয়োগের আগে কি শিক্ষকদের যাতায়াতের দূরত্ব এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়নি? তিনি পর্যবেক্ষণ করেন যে, ক্লাস নেওয়ার পর সেনসাসের কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরতে শিক্ষকদের অতিরিক্ত দেরি হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতি এড়াতে সব শিক্ষককে একসাথে না এনে, ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে একদিন অন্তর কাজের প্রস্তাব দেয় আদালত, যাতে স্কুলের পঠনপাঠন ব্যাহত না হয়।
হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, মামলাকারীদের আজই সলিসিটার জেনারেলের কাছে শিক্ষকদের বাসস্থান, বর্তমান কাজের স্থান এবং যাতায়াতের সময় সংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে হবে। আগামী মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে রাজ্যকে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছে।
এদিকে, আগামী ১৬ আগস্ট থেকে সেনসাসের কাজ শুরু হতে চলার মধ্যে একাংশ শিক্ষক ৩টি দাবি জানিয়েছেন—
- সেনসাসের সময়টিকে ‘অন ডিউটি’ হিসেবে গণ্য করা।
- স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- সেনসাসের কাজের উপযোগী উপযুক্ত মোবাইল সেট (অ্যান্ড্রয়েড ১২ যুক্ত) প্রদান করা।
দাবি পূরণ না হলে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের একাংশ সেনসাসের কাজ বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আদালতের এই হস্তক্ষেপের পর রাজ্য সরকার তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে কি না, সেদিকেই নজর শিক্ষা মহলের।