ইংরেজ হঠাতে পুড়িয়ে দেন থানা, উপড়ে ফেলেন রেললাইন! বর্ধমানের দুই বিপ্লবীর দুর্ধর্ষ কাহিনি

ইংরেজ হঠাতে পুড়িয়ে দেন থানা, উপড়ে ফেলেন রেললাইন! বর্ধমানের দুই বিপ্লবীর দুর্ধর্ষ কাহিনি

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে পূর্ব বর্ধমানের দুই বীর সন্তান, দাশরথি তা এবং যাদবেন্দ্রনাথ পাঁজার ত্যাগ ও আন্দোলন এক অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছিল। ১৯৪২ সালের ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের সময় গান্ধীজির ‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’ ডাকে সাড়া দিয়ে দাশরথি তা রায়না ও জামালপুর থানা দখল এবং জামালপুর থানায় অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব দেন। শুধু তাই নয়, ব্রিটিশদের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করতে বিডিআর রেললাইন উপড়ে ফেলার পাশাপাশি বর্ধমানে সমান্তরাল সরকার গড়ার পরিকল্পনাও করেন তিনি। তৎকালীন ইংরেজ প্রশাসন তাঁকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় ধরার জন্য ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। এ ছাড়া ১৯৩৬ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে তিনি ‘দামোদর’ নামে সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন, যা পরবর্তীকালে দৈনিকে রূপান্তরিত হয়।

অন্যদিকে, পরাধীন ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে অন্যতম মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন বর্ধমানের অপর প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা পেশায় আইনজীবী যাদবেন্দ্রনাথ পাঁজা। মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি অসহযোগ আন্দোলন ও ১৯৩০-এর দশকে মহিষবাথানে লবণ সত্যাগ্রহে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। দেশমাতৃকার সেবায় আত্মনিয়োগ করে ১৯৩২-৩৪ এবং ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় সহ জীবনে বহুবার কারাবরণ করেন এই স্বাধীনতাসংগ্রামী। দীর্ঘ দুই দশক ধরে অবিভক্ত বর্ধমান জেলা কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি পৃথক পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পক্ষেও তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভোট দিয়েছিলেন। স্বাধীন ভারতের রাজনীতিতেও দুই বীরের অবদান অনস্বীকার্য; দাশরথি তা পশ্চিমবঙ্গের কৃষিমন্ত্রী হন এবং যাদবেন্দ্রনাথ পাঁজা রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য ও পরে রাজ্য কংগ্রেস সভাপতির পদে অধিষ্ঠিত হন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *