“৩০ বছর বয়সে যারা বলেছিল দেরি হয়ে গেছে, তাদের বলছি— এটাই আমার শুরু”: মুম্বই-ওটিটি কাঁপিয়ে বিস্ফোরক তিলোত্তমা

বিদেশের মাটিতে প্রশংসার ঝড় এবং একের পর এক হিট ওটিটি সিরিজ— ‘দিল্লি ক্রাইম ۲’, ‘দ্য নাইট ম্যানেজার’, ‘লাস্ট স্টোরিজ ۲’, ‘কোটা ফ্যাক্টরি’ কিংবা ‘পাতাল লোক ۲’— বর্তমান সময়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য মুখ অভিনেত্রী তিলোত্তমা সোম। কিন্তু এত সাফল্যের পরেও কেন তিনি টলিউড বা কলকাতার পরিচালকদের কাছ থেকে ডাক পান না? সম্প্রতি বিদেশে থেকেই ‘এই সময় অনলাইন’-এর সাথে এক বিশেষ আড্ডায় নিজের মনের কথা, কেরিয়ারের নানা চড়াই-উতরাই এবং টলিউড নিয়ে মুখ খুললেন তিনি।
কলকাতার সঙ্গে ‘কমপ্লিকেটেড রিলেশনশিপ’ ও ‘ডিপ সিক্স’
সম্প্রতি মধুজা মুখোপাধ্যায় পরিচালিত এবং তিলোত্তমা অভিনীত ‘Deep6’ সিনেমাটি চার বছর পর কলকাতার বসুশ্রী সিনেমা হলে প্রদর্শিত হয়েছে। কলকাতায় জন্ম ও শৈশবের ছুটির স্মৃতি জড়িয়ে থাকলেও, তিলোত্তমা জানান শহরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা বেশ জটিল। টলিউডে কাজ না পাওয়া নিয়ে তাঁর সাফ কথা, “এই উত্তরটা কলকাতার পরিচালক বা প্রযোজকরাই দিতে পারবেন। অভিনয় করা আমার কাজ, কিন্তু গল্প নিয়ে কার কাছে যাব সেটা আমি ঠিক করতে পারি না।”
অপরাধীদের পুনর্বাসন থেকে অভিনয়ে ফেরা
অভিনয়ে পুরোদমে আসার আগে মুম্বইতে গার্হস্থ্য হিংসার শিকার এবং সংশোধনাগারের বন্দিদের নিয়ে কাজ করছিলেন তিলোত্তমা। তবে দেড় বছর পর বুঝতে পারেন, সমাজের মানসিকতা ও পুনর্বাসনের কঠিন বাস্তব একা বদলানো সম্ভব নয়। সেই সঙ্গেই মা-বাবার বয়সের কথা চিন্তা করে তিনি আবার পুরোদমে অভিনয়ে মনোনিবেশ করেন।
“৩০ মানেই সব শেষ নয়, ৪০-এর পর দু’হাত ভরে পেয়েছি”
বয়স এবং টাইপকাস্ট হওয়া নিয়ে কটূক্তির জবাব দিয়ে তিলোত্তমা বলেন, “৩০ বছর বয়সে যখন ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছিলাম, অনেকেই বলেছিল অনেক দেরি হয়ে গেছে। কিন্তু আমার জীবনের আসল সাফল্য এসেছে ৪০ পেরোনোর পর। একটা গাছ যেমন সময় নিয়ে বড় হয় এবং ফল-ফুল দেয়, আমার জীবনটাও এখন সেই গাছের মতো— কোনো কিছুর ভারে নুইয়ে পড়ে না। যারা বলেছিল ৩০ অনেক বয়স, তাদের বলতে চাই: এটাই আমার শুরু।”
টলিউডের বৈষম্য ও ‘আধুনিক দাসত্ব’ নিয়ে ক্ষোভ
ইন্ডাস্ট্রিতে লিঙ্গভিত্তিক পারিশ্রমিকের তারতম্য এবং কাজের অনির্দিষ্ট সময়সীমা (Working Hours) নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। তিলোত্তমা স্পষ্ট জানান, বড় মাপের তারকারা ৬-৮ ঘণ্টা কাজ করে বেরিয়ে গেলেও জুনিয়রদের ১২-১৪ ঘণ্টা কাজ করানো হয়। এর ফলে সেটের টেকনিশিয়ানদের প্রায় ১৬ ঘণ্টা খেটে মরতে হয়। তিলোত্তমার মতে, “এটা শুধু অমানবিকতা নয়, এক ধরণের দাসত্ব। আর এই কারণেই অনেকে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।”
সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আগমনে তিনি বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন। তিলোত্তমা মনে করেন, যাঁর যা প্রাপ্য তিনি সেটাই পাবেন। নিজের কাজ ও নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস রেখে সামনের দিকে এগিয়ে চলাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।