মরচে পড়া বিমানে চড়ে ছাগল, ছাদে বাঁধার ধুম! বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক বিমান পরিষেবা কোনটি?

বিমানে যাতায়াত মানেই সাধারণত সুরক্ষিত ও আরামদায়ক ভ্রমণের অনুভূতি। তবে আফ্রিকার ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআরসি) ক্ষেত্রে চিত্রটি একদম উল্টো। গৃহযুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও ইবোলার কারণে পিছিয়ে পড়া দেশটির জরাজীর্ণ বিমানগুলো দেখলে বাস ভেবে ভুল হওয়া স্বাভাবিক। মরচে পড়া রঙচটা বিমান, বিমানবন্দরকর্মীদের ঢিলেমি এবং সুরক্ষার চরম অভাব—সব মিলিয়ে কঙ্গোর বিমান পরিষেবা বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত। এমনকি বিমানের ভিতর যাত্রীদের সাথে ছাগল ঘুরে বেড়ানো কিংবা বিমানের ছাদেই দড়ি দিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মালপত্র বাঁধার মতো অভাবনীয় দৃশ্যও এখানে নিত্যদিনের ঘটনা।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৈশ্বিক আকাশপথের মাত্র এক শতাংশ ব্যবহার করলেও বিমান দুর্ঘটনায় কঙ্গো শীর্ষ সারিতে রয়েছে। ২০১৯ সালের ‘অ্যাভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্ক’-এর তথ্যমতে, প্রাণহানির বিচারে কঙ্গোর অবস্থান বিশ্বে চতুর্থ। নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত মারাত্মক ত্রুটির কারণে দেশের প্রধান ‘কঙ্গো এয়ারওয়েজ’-এর উড্ডয়ন সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে। যদিও ‘এয়ার কঙ্গো’ দুটি বিমানের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ পরিষেবা চালুর চেষ্টা করছে, তবুও সার্বিক মানের তেমন পরিবর্তন হয়নি। উপরন্তু, ইবোলার ছড়াছড়ির দরুন আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। যাত্রীনিরাপত্তা ও পরিকাঠামো তলানিতে থাকায় প্রাণ হাতে নিয়েই এখানকার আকাশপথে যাতায়াত করতে হয়।