ডিগ্রি থাকলেও মিলছে না কাজ, চরম হতাশায় চাকরি খোঁজা ছাড়ছে ভারতের ১০ কোটি যুবসমাজ

সরকারি চাকরির নিয়োগে অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে শুরু করে রাঁচি পর্যন্ত দেশজুড়ে ফুঁসে উঠেছে জেন-জি (Gen-Z) প্রজন্ম। এই বিক্ষোভ কেবল সাময়িক অসন্তোষ নয়, বরং দেশের তরুণ সমাজের টিকে থাকার এক কঠিন লড়াই।
যে যুবশক্তিকে ভরসা করে ভারতকে উন্নত বিশ্বের কাতারে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, বর্তমান বাস্তব তার ঠিক বিপরীত। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ১০০ কোটি কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে মাত্র ৬৭ কোটির কাজের সুযোগ রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, মোট বেকারের প্রায় ৮৩ শতাংশই যুবসমাজ। আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্টেট অব ওয়ার্কিং ইন্ডিয়া ২০২৬’ রিপোর্ট অনুযায়ী, স্নাতক ডিগ্রিধারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার পৌঁছেছে প্রায় ৪০ শতাংশে। অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, এটি ‘কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি’—অর্থাৎ দেশের অর্থনীতি বাড়লেও নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।
এই সংকটের নেপথ্যে মূল চার কারণ:
- উৎপাদন খাতের পতন: সেবা খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে ম্যানুফ্যাকচারিং খাত পিছিয়ে পড়েছে। জিডিপিতে এর অবদান ১৭% থেকে কমে ১২%-এ নেমে এসেছে।
- এআই ও অটোমেশন: তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারে মানুষের কাজের সুযোগ কমছে।
- শিক্ষাব্যবস্থার খামতি: ডিগ্রি মিললেও বাজারের চাহিদামতো ব্যবহারিক দক্ষতা তৈরি হচ্ছে না। সরকারি দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পগুলিও আশানুরূপ ফল দিতে ব্যর্থ।
- হতাশায় কাজ খোঁজা বন্ধ: উপযুক্ত কাজ না পেয়ে ২০১২ সালের ৫ কোটি হতাশ যুবকের সংখ্যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ কোটিতে, যারা স্থায়ীভাবে চাকরি খোঁজাই বন্ধ করে দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর কর্মসংস্থান নীতি গ্রহণ না করলে দেশের এই বিশাল যুবশক্তিই ভারতের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হয়ে উঠতে পারে।