কলকাতায় ঘনাচ্ছে বড় স্বাস্থ্যসংকট! জলবায়ু বদলে বর্ষা-গ্রীষ্মজুড়ে বছরভর কলেরার দাপটের আশঙ্কা গবেষকদের

কলকাতায় ঘনাচ্ছে বড় স্বাস্থ্যসংকট! জলবায়ু বদলে বর্ষা-গ্রীষ্মজুড়ে বছরভর কলেরার দাপটের আশঙ্কা গবেষকদের

কলকাতা: বর্ষাকালে পানীয় জল ও নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে শহরবাসীকে চরম সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকেরা। ইউকে-র ‘ইউনিভার্সিটি অব এক্সটার’ (University of Exeter) এবং ভারতের ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ’ (ICMR)-এর যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, বিশ্বউষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চলতি শতাব্দীর শেষভাগে (২০৮০–২০৯৯) কলকাতায় কলেরার প্রকোপ বর্তমানে তুলনায় ৮১ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

গবেষণার মূল বিষয় ও ঝুঁকি:

  • তথ্যভিত্তিক মডেল: ১৯৯৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কলকাতার দীর্ঘ ২০ বছরের আবহাওয়া ও কলেরা সংক্রমণের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই গাণিতিক মডেল তৈরি করা হয়েছে।
  • ঋতুভিত্তিক পরিবর্তনের বিলোপ: বর্তমানে কলকাতায় মূলত গরমকাল ও বর্ষাকালে কলেরার দুটি আলাদা ঢেউ দেখা যায়। তবে ভবিষ্যতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে এই দুটি ঢেউয়ের মধ্যবর্তী ব্যবধান কমে আসবে। ফলে প্রায় সারা বছর বা দীর্ঘ সময় ধরে এই সংক্রমণের ঝুঁকি বহাল থাকতে পারে।
  • কেন বাড়ে সংক্রমণ? কলেরার জন্য দায়ী Vibrio cholerae নামক ব্যাকটেরিয়া উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। প্রবল বর্ষায় শহরের নিকাশি ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পানীয় জলের সঙ্গে নোংরা ও দূষিত জল মিশে গেলে সংক্রমণ মহামারি রূপ নেয়।

প্রতিরোধে করণীয় ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: গবেষকদের মতে, এটি কোনো সুনির্দিষ্ট ভবিষ্যৎবাণী না হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবের একটি বৈজ্ঞানিক বার্তা। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই কিছু জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন:

১. পরিকাঠামো উন্নয়ন: শহরের জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের সরবরাহ সুনিশ্চিত করা।

২. ব্যক্তিগত সতর্কতা:

  • বর্ষাকালে জল ফুটিয়ে বা পরিশ্রুত (Filtered) জল পান করা।
  • ফুটপাথের খোলা খাবার বা অপরিষ্কার জল এড়িয়ে চলা।
  • খাবার সবসময় ঢেকে রাখা এবং শৌচাগার ব্যবহারের পর ও খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধোওয়া।
  • প্রয়োজনে টিকাকরণ কর্মসূচিতে নতুন রণকৌশল গ্রহণ করা।

জলবায়ু পরিবর্তন কেবল তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে না, সংক্রামক ব্যাধির ঝুঁকিও বহুমুখী করে তুলছে। তাই কলকাতার মতো জনবহুল শহরে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে সচেতনতাই এখন মূল হাতিয়ার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *