আমেরিকা-ইরান চুক্তিতে বড় অনিশ্চয়তা: হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের তীব্র হুঁশিয়ারি!

জুন মাসে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির পর আশা করা হয়েছিল, এবার হয়তো মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফিরবে। কিন্তু ৬০ দিনের সময়সীমা পার হয়ে গেলেও কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশ। উল্টে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দূরত্ব আরও বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, জুন মাসের প্রাথমিক চুক্তির মেয়াদ আর বাড়াতে রাজি নয় ওয়াশিংটন। ট্রাম্প বলেন, “ইরান অবশ্যই একটি চুক্তি চায়, কিন্তু আমি যে ধরনের কঠোর শর্তাবলী প্রয়োজনীয় মনে করি, তারা তাতে রাজি হবে না। আমাদের সেখানে থাকার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো ইরানকে কোনোভাবেই যেন পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না দেওয়া।”
হরমুজ প্রণালী ও ইরানের আর্থিক সংকট নিয়ে বক্তব্য: হরমুজ প্রণালী নিয়ে নিজের শক্ত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প দাবি করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর বর্তমানে আমেরিকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তাঁর মতে, তাঁদের দেওয়া অর্থনৈতিক অবরোধ অত্যন্ত কার্যকরী হলেও ইরান সমুদ্রপথে মাইন পুঁতে জলযান চলাচলে সমস্যা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সপ্তাহে কোটি কোটি ব্যারেল তেল এখনও এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি, ট্রাম্প ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ভেঙে পড়ার চিত্র তুলে ধরে বলেন, সেখানে মুদ্রাস্ফীতি ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে এবং তাদের সামরিক শক্তি চরম সংকটে।
সংকটে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ: অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ৬০ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হলেও সমঝোতার কোনো স্পষ্ট পথ এখনও তৈরি হয়নি। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন মনোভাবের কারণে ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন— মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার যে ক্ষীণ আশা দেখা গিয়েছিল, তা আপাতত অনিশ্চয়তার মুখেই পড়ল।