নদীয়ায় জোড়া খুন: পুলিশি তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ পরিবারের, ময়দানে নামল ফরেনসিক টিম

নদীয়ায় জোড়া খুন: পুলিশি তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ পরিবারের, ময়দানে নামল ফরেনসিক টিম

নদীয়ার নাকাশীপাড়ায় কংগ্রেসের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি আনিসুর রহমান ও তাঁর পুত্র আবু সুফিয়ানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তের গতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতদের পরিবার। নাকাশীপাড়া থানার আইসি-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জেলা পুলিশ সুপারের (SP) সঙ্গে দেখা করেন আনিসুরের ভাই মহম্মদ জিয়া শেখ। পরিবারের পক্ষ থেকে সঠিক তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রধান প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ঘটনার পর অভিযুক্ত জুব্বার শেখের স্ত্রী কেন আইসি-র সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। নিহতদের স্বজনদের দাবি, অপরাধীদের কোনোভাবেই পার পাওয়া চলবে না। পুলিশ সুপার অবশ্য পরিবারকে আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন যে তদন্ত সঠিক পথেই এগোচ্ছে।

এদিকে সোমবার সকালেই চার সদস্যের একটি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাঁরা আনিসুরের গুলিবিদ্ধ গাড়ি এবং অকুস্থল পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ করেন। গাড়ি লক্ষ্য করে ঠিক কোন কোণ থেকে এবং কত রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল, পাশাপাশি কী ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল—তা বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চাঞ্চল্যকর এই জোড়া খুনের ঘটনায় পুলিশ সোমবার আরও ২ জনকে গ্রেফতার করেছে। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট ৫ জন পুলিশি হেফাজতে এল। এর আগে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধি ফতেমা বিবি সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়, যাদের আদালত ৯ দিনের জন্য পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছে।

১৫ আগস্ট রাতে বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে আনিসুর ও তাঁর ছেলের গাড়ি ঘিরে ধরে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয় ও কোপানো হয়। এর নেপথ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ না কি রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এলাকায় কংগ্রেসের শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ার জেরে জেলবন্দি নেতা জুব্বার শেখ এই চক্রান্ত করেছে বলে পরিবার দাবি করেছে। ঘটনার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ স্ক্যান করে মূল ষড়যন্ত্র ও হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *