তারাপীঠে অগ্নিকাণ্ড: গ্রেপ্তার হোটেল মালিক ও ছেলে, পুকুরে ডুবুরি নামিয়ে চলছে তল্লাশি

তারাপীঠ: তারাপীঠ মন্দিরের কাছে ‘বিদেশিনী’ নামের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ করল পুলিশ। সোমবারই হোটেলের মালিকের ছেলে কল্যাণ পালকে আটক করে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর মঙ্গলবার হোটেলের মূল মালিক প্রবীর পালকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোর প্রায় ৫টা নাগাদ তারাপীঠ মন্দির ও থানার কাছে অবস্থিত ওই হোটেলে আগুন লাগে। প্রাথমিক তদন্ত অনুমান, রিসেপশনের এসি (AC)-র MCB-তে শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে।
আগুন থেকে বাঁচতে পুকুরে ঝাঁপ পুণ্যার্থীদের: ভোররাতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখে আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েন হোটেলের পর্যটকরা। প্রাণ বাঁচাতে কেউ ব্যালকনি থেকে পাইপ ধরে, কেউ গাছের ডাল বেয়ে, আবার কেউ দোতলা ও তিনতলা থেকে সোজা পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন। জলে ডুবে আর কেউ নিখোঁজ বা মারা গিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার সকালে দমকল ও প্রশাসনের নির্দেশে বোট এবং ডুবুরি নামিয়ে পুকুরে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
অব্যবস্থা ও গাফিলতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ: ঘটনায় হোটেলের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো নিয়ে একের পর এক মারাত্মক অভিযোগ তুলছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও পুণ্যার্থীরা।
- পুরো হোটেল ধোঁয়ায় ঢেকে গেলেও কোনো ফায়ার অ্যালার্ম বাজেনি।
- পর্যটকরা বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করলে দেখা যায় জরুরি নির্গমণ পথ (Emergency Exit Gate) তালাবন্ধ ছিল।
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে গ্রেপ্তার হওয়া মালিকের ছেলে কল্যাণ পাল দাবি করেছিলেন, “হোটেলের পেছনে জরুরি নির্গমণ পথ ছিল, কিন্তু অনেকেই তা জানতেন না। ফলে সামনে দিয়ে বেরোতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।”
বর্তমানে পুলিশ এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের পেছনের সমস্ত গাফিলতি খতিয়ে দেখে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।