হাইকোর্টের নির্দেশে স্বস্তিতে ঋতব্রত, ধাক্কা খেল কালীঘাট তৃণমূল

বিরোধী দলনেতা পদ ঘিরে চলমান আইনি লড়াইয়ে আপাতত স্বস্তি পেলেন ‘আসল তৃণমূল’-এর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাট তৃণমূলের দায়ের করা মামলায় হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। ফলে বিধানসভার স্পিকারের সিদ্ধান্ত বজায় রেখে আগামী দুই মাস বিরোধী দলনেতা পদে বহাল থাকছেন ঋতব্রতই।
মঙ্গলবার বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, এই মুহূর্তে তারা স্পিকারের সিদ্ধান্তে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে স্পিকারের এই রায় চূড়ান্ত নয়, বরং সম্পূর্ণ অস্থায়ী। মামলাটি পুনরায় সিঙ্গেল বেঞ্চে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে মূল মামলার নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে সরকার গঠনের পর থেকেই বিধানসভার বিরোধী দলনেতা কে হবেন, তা নিয়ে কালীঘাট তৃণমূল ও ‘আসল তৃণমূল’-এর মধ্যে বিরোধ চলছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিলে, তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কালীঘাট তৃণমূলের মনোনীত প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
শুনানিকালে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া সত্ত্বেও ঋতব্রত শিবিরের বক্তব্যকে কেন প্রাধান্য দেওয়া হলো এবং মূল গোষ্ঠীর চিঠি উপেক্ষা করা হলো কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চ আপাতত হস্তক্ষেপ না করায় ঋতব্রতই পদে থাকছেন। তবে সিঙ্গেল বেঞ্চের চূড়ান্ত রায়ের ওপর নির্ভর করবে এই পদের ভবিষ্যৎ, যা নিয়ে আইনি মহলে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার জল্পনাও তৈরি হয়েছে।