‘সৌদির জেলে পচার চেয়ে আইন মানা শ্রেয়’, হজের আড়ালে ভিক্ষা রুখতে কড়া বার্তা পাক দূতাবাসের

বিদেশে নিজেদের নাগরিকদের বিভিন্ন অপকর্মের কারণে প্রতিবছরই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় পাকিস্তানকে। পবিত্র হজ ও উমরাহ ভিসার সুযোগ নিয়ে অনেক পাকিস্তানি সৌদি আরবে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে লিপ্ত হন। বন্ধুরাষ্ট্র পাকিস্তানের নাগরিকদের এমন আচরণে একাধিকবার তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সৌদি প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে দেশের হজযাত্রীদের কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে পাকিস্তান।
সৌদি আরবে অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, হজে গিয়ে কোনোভাবেই ভিক্ষাবৃত্তি বা বেআইনি উপায়ে অর্থ উপার্জন করা যাবে না। মক্কা ও মদিনার পবিত্র এলাকায় এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সৌদি সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। নিয়ম অমান্য করলে গ্রেপ্তার, কারাদণ্ড এবং চিরতরে সৌদি আরবে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
নাগরিকদের সচেতন করতে পাক দূতাবাস সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মক্কা ও মদিনা প্রাঙ্গণে ভিক্ষা করার অপরাধে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠাচ্ছে সৌদি পুলিশ এবং পরবর্তীতে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া হুইলচেয়ার ব্যবহার বা মাথা কামানোর অজুহাতে পুণ্যার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের দৃশ্যও তুলে ধরা হয়েছে। দূতাবাসের স্পষ্ট বার্তা—সৌদির কারাগারে পচে মরার চেয়ে আইন মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বছর ধরেই সৌদি সরকারের অভিযোগ ছিল, উমরাহ ও হজ ভিসার আড়ালে পাকিস্তান থেকে আসা বহু মানুষ অপরাধমূলক কাজ ও ভিক্ষাবৃত্তিতে যুক্ত হচ্ছে। বিশ্বদরবারে নিজেদের দেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতেই এবার এই কঠোর পদক্ষেপ নিল ইসলামাবাদ।