দমকলের পাশেই মরণফাঁদ! নিউ মার্কেটে জোড়া বাড়ি জুড়ে বেআইনি হোটেল, অগ্নিকাণ্ডে মৃত ৯

কলকাতা: কলকাতা নিউ মার্কেট থানার অন্তর্গত মির্জা গালিব স্ট্রিটের এক বহুতল হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শিশু ও মহিলাসহ ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, মৃতদের মধ্যে দমবন্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন পুরুষ, ২ জন মহিলা এবং ১ জন শিশু।
মঙ্গলবার রাতে তিনতলার একটি হোটেল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন মারাত্মক রূপ না নিলেও, কিছুক্ষণের মধ্যেই সম্পূর্ণ বহুতলটি বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। কাছেই দমকলের কার্যালয় থাকায় কর্মীরা দ্রুত পৌঁছে দু’ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে একাধিক প্রাণহানি ঘটে। উদ্ধারকারী দলের তৎপরতায় শৌচাগারে আশ্রয় নেওয়া বেশ কিছু আবাসিক অলৌকিকভাবে প্রাণ রক্ষা পান।
এই দুর্ঘটনার পর হোটেলের বৈধতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তিন-চার বছর আগে দুটি ভিন্ন ঠিকানার রেসিডেন্সিয়াল (আবাসিক) বাড়িকে বেআইনিভাবে জুড়ে ‘এল’ (L) আকৃতির কমার্শিয়াল বিল্ডিং বানিয়ে ছোট ছোট ঘর তুলে হোটেল চালানো হচ্ছিল। বহুতলে আগুন নেভানোর কোনো আধুনিক ব্যবস্থা ছিল না। জরুরি মুহূর্তে বাইরে বেরোনোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো ‘ইমার্জেন্সি এক্সিট’ ছিল না; কেবল একটি অত্যন্ত সংকীর্ণ যাতায়াতের পথ ছিল। এমনকি ঘর বড় করতে বহুতলের মূল পিলার পর্যন্ত কেটে কাঠামো দুর্বল করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
দমকলের হেড অফিসের নাকের ডগায় কীভাবে বছরের পর বছর এমন বেআইনি হোটেল চলল এবং কীভাবে এরা ট্রেড লাইসেন্স বা ফায়ার ক্লিয়ারেন্স পেল—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাজ্যের দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী জানান, হোটেলটি কীভাবে অনুমতি ও ট্রেড লাইসেন্স পেয়েছিল তা খতিয়ে দেখতে কঠোর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মুখ্যমন্ত্রী নিজে পুরো ঘটনার তদারকি করছেন। অন্যদিকে, বিরোধীদের অভিযোগ, আবাসিক ভবনকে অনিয়ম করে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করার ফলেই আজ এই মর্মান্তিক পরিণতি।