ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিল দেখছেন, অজান্তেই কি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছে আপনার মস্তিষ্ক

বর্তমান যুগে বয়স নির্বিশেষে তরুণ থেকে প্রবীণ, সকলেরই ফোন হাতে পেলে রিল বা শর্ট ভিডিও দেখার প্রবণতা মারাত্মক বেড়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় সামনে এসেছে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিজ্ঞানীদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে এই ধরনের ছোট ভিডিও দেখলে মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সাময়িকভাবে শিথিল হয়ে পড়ে। ৫০ জনেরও বেশি তরুণের ওপর এফএমআরআই স্ক্যানের মাধ্যমে চালানো এই গবেষণায় দেখা গেছে, পছন্দের ভিডিও উপভোগ করার সময় মস্তিষ্কের ‘ডোরসাল অ্যান্টিরিয়র সিঙ্গুলেট কর্টেক্স’ ও ‘ডোরসোলেটারাল প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স’ নামক দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের সক্রিয়তা অনেকটাই কমে যায়। এই অংশ দুটি মানুষের মনোযোগ ধরে রাখা এবং স্বনিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর ফলেই ডোপামিন ক্ষরণের তাড়নায় মানুষ অনিচ্ছা সত্ত্বেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রোল করে চলে।
তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করেছেন যে রিল দেখলে মস্তিষ্ক স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। প্রধান সমস্যাটি দেখা দেয় মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তির ক্ষেত্রে। গবেষণাপত্র অনুযায়ী, রিলের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিষয়বস্তুর কারণে মানুষের ভবিষ্যতে করণীয় কাজ মনে রাখার ক্ষমতা বা ‘প্রস্পেক্টিভ মেমোরি’ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। অতিরিক্ত শর্ট ভিডিও দেখার এই অভ্যাস দৈনন্দিন কাজের মনোযোগ বিঘ্নিত করার পাশাপাশি মানুষের মনস্তাত্ত্বিক স্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলছে। ফলে সামান্য বিনোদনের উদ্দেশ্যে শুরু করা এই নেশা ধীরে ধীরে আধুনিক ডিজিটাল জগতের অন্যতম বড় মানসিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।