“তদন্তের ধরণ বদলাক সিবিআই”, কড়া কোর্টের ধাক্কায় নতুন অফিসারদের নিয়ে সরগরম আরজি কর হাসপাতাল

“তদন্তের ধরণ বদলাক সিবিআই”, কড়া কোর্টের ধাক্কায় নতুন অফিসারদের নিয়ে সরগরম আরজি কর হাসপাতাল

আরজি কর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও নৃশংস খুনের মামলায় তদন্তের গতি বাড়াল সিবিআই-এর নতুন বিশেষ প্রতিনিধি দল (SIT)। আগামী ২৮ অগস্ট কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। ঠিক তার ১০ দিন আগেই, বুধবার দুপুরে সিবিআই-এর তিন সদস্যের একটি নতুন দল (যার মধ্যে ছিলেন এক মহিলা অফিসার) ফের আরজি কর হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানে তাঁরা একাধিক নার্সের সঙ্গে কথা বলেন এবং তৎকালীন অধ্যক্ষের ঘরেও যান।

হাইকোর্টের ভর্ৎসনা ও কড়া পর্যবেক্ষণ: গত ৬ অগস্ট মামলার শুনানিতে বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। আদালত সাফ জানিয়েছিল:

  • সঠিক পথে এগোচ্ছে না তদন্ত: আগের তদন্ত প্রক্রিয়ার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কাজ করছে নতুন টিম।
  • নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন: ঘটনার রাতে ঠিক কী হয়েছিল—হাসপাতাল থেকে শ্মশানঘাট পর্যন্ত প্রতি মুহূর্তের তথ্য নতুন করে খতিয়ে দেখতে হবে। পুরনো তদন্ত সম্পূর্ণ ভুলে গিয়ে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত চালাতে হবে।

নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ ও প্রশ্ন: কলকাতা পুলিশ এবং পূর্বের সিবিআই তদন্ত নিয়ে প্রথম থেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে নির্যাতিতার পরিবার। আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পরিবারের আইনজীবী জানান, ঘটনার রাতে নির্যাতিতার সঙ্গে যে চারজন জুনিয়র চিকিৎসক নৈশভোজ করেছিলেন, তাঁদের ভূমিকা ও প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে না। এমনকী সৌমিত্র রায় নামে এক চিকিৎসকের বয়ান ঠিকমতো রেকর্ডই করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। আদালতও সিবিআই-এর কাছে জানতে চায়, ঘটনার পরদিন সকালে ঠিক কোন সময়ে পরিবারকে জানানো হয়েছিল।

সিবিআই-এর অবস্থান ও পরবর্তী পদক্ষেপ: সিবিআই-এর নতুন প্রতিনিধি দল আদালতের কাছে ১,০০০ পাতার নথি খতিয়ে দেখতে ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য বাড়তি সময় চেয়েছিল। কেন্দ্রীয় সংস্থার আইনজীবী আশ্বাস দিয়েছেন, দক্ষ অফিসাররা প্রতিটি সূত্র ধরে তদন্ত করছেন এবং এতে কোন গাফিলতি থাকবে না।

বর্তমানে এই মামলার দায়িত্বে রয়েছেন সিবিআই-এর যুগ্ম ডিরেক্টর অনুরাগ কুমার ও মণীশ উপাধ্যায় এবং নতুন তদন্তকারী অফিসার (IO) সন্দিপনী গর্গ। হাইকোর্টের কড়া নির্দেশের পরই দ্রুত তৎপরতা দেখায় সিবিআই এবং জোর করে দেহ সৎকারের অভিযোগে জলহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়। এখন ২৮ অগস্ট আদালতে তদন্তের চূড়ান্ত অগ্রগতির রিপোর্ট কী জমা পড়ে, সেদিকেই নজর সবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *