যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে টুকরো টুকরো করে হত্যা! দীর্ঘ ৬ বছর পর ঘাতক স্বামীর যাবজ্জীবন

যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে টুকরো টুকরো করে হত্যা! দীর্ঘ ৬ বছর পর ঘাতক স্বামীর যাবজ্জীবন

অতিরিক্ত যৌতুকের লোভে নববিবাহিতা স্ত্রীকে চরম নৃশংসতায় হত্যা করার অভিযোগে এক পাষণ্ড স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত। যৌতুক হিসেবে মনপছন্দ মহিষ এবং মোটরসাইকেল না পাওয়ায় এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে অভিযুক্ত সুভাষ যাদব। দীর্ঘ ছয় বছরের আইনি লড়াই শেষে বিহারের পশ্চিম চম্পারণ জেলা আদালত এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় প্রদান করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ৩০ জুলাই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। বিয়ের পর থেকেই বাপের বাড়ি থেকে বাড়তি যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য স্ত্রী রীনা দেবীর ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাত সুভাষ। রীনার পরিবার সেই দাবি মেটাতে ব্যর্থ হলে দম্পতির মধ্যে কলহ চরম রূপ নেয়। এর জেরেই অত্যন্ত নির্মমভাবে রীনাক কুপিয়ে হত্যা করে সুভাষ। অপরাধ ঢাকতে ও প্রমাণ লোপাট করতে মৃতদেহ টুকরো টুকরো করে আলাদা বস্তায় ভরে পুড়িয়ে ফেলারও চেষ্টা চালানো হয়।

ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ সুভাষকে গ্রেপ্তার করে এবং আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। যাবতীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ বিবেচনা করে বিচারক সুভাষকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনান। এর পাশাপাশি:

  • আর্থিক জরিমানা: ১ লক্ষ টাকা জরিমানা, যা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড।
  • প্রমাণ লোপাটের সাজা: অতিরিক্ত ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা জরিমানা।

নিহত রীনা দেবীর দুই শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় আদালত বিহার সরকারকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে। দুই সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে মাথাপিছু ৪,০০০ টাকা করে সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোর্টের এই সাজার রায়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি প্রকাশ করেছে মৃতার স্বজনরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *